
সব্যসাচী মজুমদার-এর কবিতাগুচ্ছ
চারটি কবিতা
দেখতে পাচ্ছি …
দেখতে পাচ্ছি— সামন্ত তন্ত্র অব্দি নাগ চাঁপা …
সামন্ত তন্ত্র অব্দি শরীর …
গরমের দেশের গোধূলি
যেভাবে ভয় দেখিয়ে নিশ্চল করে দেয়,
যেভাবে বাতাবরণ তৈরি করে,
চায়— সমুদ্র পেরুনোর অভিজ্ঞতা, বিস্মরণ—
বাগদিরা শুয়োর পিটিয়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছে
আমাদের উঠোন থেকে আর
আমি চোখ বুজে আছি,
মা, রান্না করছে,
আমি, চোখ বুজে আছি,
লোকজন শুয়োর পিটোচ্ছে,
একজন বর্ডার পেরুল …
বর্ষা ঢুকে পড়ছে
বর্ষা ঢুকে পড়ছে
এরকম আকাশের নীচে
পিঁপড়ের ভেতর থেকে
বের হয়ে গেল পিঁপড়ে…
দীর্ঘ বিস্তৃত মেঘের মধ্যে
তোমার বেড়াতে যেতে
ইচ্ছে করছে-র মতন
ফিরোজা ঘটেছে…
বিবিধ গগনে তুমি চিল
— এভাবে দেখার মতো
করুণা এখন পৃথিবীতে নেই
পাখির বাসাও ভেঙে গেল …
তবে যে বাতাস হয়,
তার ঘুম নিয়ে খেলা কর আর
সমস্ত বিস্ফোরণের ঈর্ষা হয়
সরোদ বাজায় …
বৃষ্টি
গাছ থেকে দেখা বৃষ্টির
জলে ভিজে গেল যাহারা,
যাদের সকল সংকেত
ধরা পড়ে গেল অংকে,
ওদের সমূহ পুলকে
আগুনের ঘটে বৃদ্ধি
বৃদ্ধির মতো সংশয়
কিছু নেই এই জীবনে
জীবনও পাথর ঝরাল
জীবনও হলুদ, সনাতন …
পরিচয় কারা চাইল ?
পরিচয় এই জীবনের !
কার শিরা কেটে নিঃস্ব
ওগো বৃষ্টির ইচ্ছে,
ভুলে যাও এই দৃশ্যে
জলে ভিজে গেছে উড্ডীন …
জলের নীচে
অসম্মত জলের নীচে মাছ
আমার গায়ে আছড়ে পড়েছিল
তোমার নদীর রাতুল সংকাশ
আমার ঘরে ঢুকিয়ে দেয় চিলও
জন্মেছিলে জখম থেকে দূরে
গুমোট বিষে জ্যোৎস্না ঘটে যায়
তোমার হাত অনুজ্জ্বল সুরে
ঈষৎ কাঁপে নিজের ইচ্ছায়…
ইচ্ছে হল এক রকম ধুলো
হঠাৎ উড়ে আবার নেমে আসে
তোমার মতো সংখ্যাহীন ভুলও
করতে চায়, করতে ভালবাসে …
সহজ কর ভাতের দানা ক’টি
সহজ কর সমূহ উড্ডীন
জলের নীচে ডুবছে উন্নতি
যেভাবে তুমি বোঝালে আশ্বিন…

