
মণিশংকর বিশ্বাস-এর কবিতাগুচ্ছ
শ্যামাসংগীত
জীবন পৌনে একঘণ্টা স্লো হয়ে গেছে।
এই ফাঁকে সজল এসেছে। এলআইসি সজল।
ওর ভিতর শ্যামাসংগীত। মাধ্যমিকে ইতিহাসে লেটার।
আমার ভিতর কিছু নেই। শুধু ডেটা অ্যানালিসিস, অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের বিষক্রিয়া।
আর সজলের বোন প্রিয়াঙ্কা।
মনে মনে আমি নরম পানীয়, আর প্রিয়াঙ্কা সেই পানীয়ের বিজ্ঞাপন
এক চুমুকে শেষ হয়ে যাচ্ছি….
আমাদের সব খেলা, সব অনুরোধের আসরে
সজল একটা বালতি হাতে দাঁড়িয়ে
ওর ভিতর শ্যামাসংগীত, ওর ভিতর অশ্রুসজল
লালসা
বৃষ্টির ভিতর রেখে আসা গোলাপগুচ্ছ থেকে
একটা অজানা রিংটোন বাজছে…
সমস্ত বিষাদের আগে রিজিওনাল ল্যাঙ্গুয়েজের মেয়েটিকে দেখি।
ভালো লাগে।
বিংশ শতকের গোঁড়ার দিকে ওর প্রপিতামহ আমার পিতামহকে
স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন, এরকম একটা গল্প ফাঁদি মনে মনে।
সেই থেকে আমি ওর নুন খাচ্ছি।
কী আশ্চর্য এই ভূখণ্ড, মার্জিনাল জীবন
মুখের ভিতর আখ খেত, সার্কাসের তাঁবু
মেলোড্রামা
ব্যবহৃত জিনসের মতো ভোর
বিন্দাস পরোটা ভাজা হচ্ছে গলির মুখে
আমার টাইমলাইনে মাধুরী কমে আসে
এই তো সময় হল—
ভাষাকে তছনছ করে বাজারের দিকে এগুতে থাকে
মফস্বলের প্রিন্সেস গোলদার
এই তো সময় হল, নিজেকে জিজ্ঞেস করবার—
আমি কী আর ভালো হবো না? সুখী হবো না?
গরীবের সবজি দোকানে যেভাবে ফুলকপি ফুটে থাকে
ফিল্ডার
মৃদু কক্ষপথ থেকে সরে আসি
তালতলা সেবাসদনের দিকে
মা আছে
স্পষ্ট টের পাই স্যালাইন চলছে
সময় ড্রিপ করছে
একটা ক্যাম্বিস বল আকাশের দিকে খুব উঠে গেছে
নিচে অজস্র ব্যর্থ হাত
অনেক চালাকি হয়েছে, থেকে থেকে মৃত্যুর কথা
তাও ভাবা হল…
অথচ কী যে যাতা সুন্দর দেখতে দু’একটা মেয়ে
ঠেক
বিশু এলি নাকি?
স্টিলের থালায় পেয়াজ আর ফালি করে কাটা শসা।
ভাসমান রামচন্দ্রপুর ফিরে এল
ট্রেন চলে যাবার পরের ধুলো
ক্লাস সেভেনের সহপাঠী যে ক্লাস পার করে
বায়সার বিলের দিকে চলে গেছিল, নাম সহ সেও ফিরলো।
আশ্চর্য! প্রকাশ যে প্রকাশ, সন্ধের হ্যারিকেনের চেয়েও
তা আরও আস্তে বোঝা গেল!
রমনদা, তুমি খাচ্ছ না কেন?
ঢুকু-ঢুকু ভোলা কী তবে ফিরবে না
ওই তো গেল শুয়োরের ঝাল আর হাতেগড়া রুটি আনতে!
আচ্ছা ছোটো কোথায়?
আরেহ্ কচি এসেছে জয়েন্টের কোচিং থেকে
ওর কাছে নোটস আর মৌকে লেখা চিঠি ছাড়া আর কিছু নেই
তবে নমিতেশের ব্যাগে আছে
‘বিবাহিত জীবন’, ডেবোনিয়ার জানুয়ারি ১৯৯২ আর দেড়খানা চটি বই।
আধখানা ছিঁড়ে টোটোন নিয়েছে।
পার্থ দেখেছে সব, এখনও মুখ খোলেনি
মুখ খুললেই তো বিশ্বরূপ
বিশাল এক অমাবস্যার নিচে বসে আছি
ভজগোপাল, ভাই চকোত্তি, ভোলা, ওই তো ওরা রেললাইন পার করে চলে গেল
অন্য এক নক্ষত্রের আলোয় ওদের পৃথিবীতে ফুটে উঠলো ভোর, কলাপাতায় শিশির, পুজো আসছে ঐ
বাহন
প্রতিশোধপরায়ণ মাটি, ঘাস, পাথর।
জিজ্ঞাসা গাছ।
গাছের নীচে বিবিধ নিষেধাজ্ঞা ও বিষমদের নাচ মাথায়
শীতলপাটিতে শুয়ে আছে মাইকেল
গত শ্রাবণ মাসে বিয়া আর পরব হয়েছিল।
মাটিতে ফিরে যাবার আগে
ভিড়ের ভিতর চাপাস্বরে বউয়ের কাছে
জল খেতে চাইল , একটা বিড়িও।
শীতল পাটিতে গতর লাগিয়ে এত মাইল পথ যাওয়া
যাইতাই ব্যাপার লয় গো!
তবে বাহন আছে, একটা নয়, লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি!
পোকারাই হাড়মাস যা কিছু আছে, কেজি পঞ্চাশেক
সব তুলে নেবে, এটুকুই যা সোয়াস্তি!

