
দহন/ অংশুমান কর
পাথরে পাথরে আমি ঠুকি। প্রথমে একটা ফুল জন্ম নেয়। তারপরে একটা ঘোড়া। আমি আবার পাথরে পাথরে ঠুকি। পৃথিবীতে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়তে থাকে জারুল ফুলের মতো বেদনা। তারপর নদীর মতো ছুটতে থাকে একটা তেতো ইচ্ছে। সে কি বন্যায় ঢেকে ফেলবে পুরো পৃথিবী ভাবতে ভাবতে আবার আমি ঘষা দিই পাথরে পাথরে। এবার জন্ম নেয় তোমার স্কার্ফের মতো ঝকঝকে একটা একবিংশ শতাব্দীর শহর। তার পাশে দাঁড়িয়ে হাসতে থাকে ছোটো ভাইয়ের মতো ঊনবিংশ শতাব্দীর একটা কুয়াশায় ঢাকা গ্রাম। কোন্দলে ঠিক কী হবে এই কথা যখন ভাবছি তখনই দেখি একটা শিরিষ গাছ দুই ভাইকে বকা দিচ্ছে খুব। পাথরে পাথরে আমি আবার ঘষা দিই। এইবার জন্ম নেয় কাগজের ফুল, তাতে জুঁইয়ের সুবাস। এভাবে পাথরে পাথরে আমি ঠুকতেই থাকি যতক্ষণ না জন্ম নেয় আগুন আর মানুষ জানতে পারে দহনের সৌন্দর্য কেমন।

