শুভম চক্রবর্তী-র কবিতাগুচ্ছ

শুভম চক্রবর্তী-র কবিতাগুচ্ছ


টুকরো বাস্তবতার গা ঘেঁষে

এগরোলের ভেতরে ডিম আছে, ময়দা, তেল, পেঁয়াজ, রসুন, মশলাও আছে। সবমিলিয়ে এগরোল। কিন্তু এদের আলাদা আলাদা অস্তিত্ব টের পাওয়া যায় না। মনে করো তার সমগ্র ছেড়ে ডিম হাঁসের মতো প্যাক প্যাক শব্দ ক’রে উড়ে যাচ্ছে গোলদিঘির দিকে। ময়দা সেঁধিয়ে যাচ্ছে চটের বস্তায় আর তেল, পেঁয়াজ, রসুন, মশলা ফিরে যেতে চাইছে যে যার ডেরায়। তখন টোটাল ব্যাপারটা কী দাঁড়াবে। তখন কেউ ওপর থেকে মোটমাট কিছু দেখবেই না। ঠিক আমাদেরই মতো খণ্ড খণ্ড একফালি দু’ফালি টুকরো বাস্তবতারা মুখরতায় জ্যাবজেবে করে তুলবে সন্ধ্যার আকাশ।

একদিন কিছুটা ঘুমিয়ে

ঠিক কারেন্ট চলে যাওয়ার পরই কিলবিল ক’রে উঠলো আমার আমি৷ এমন সর্পিল আমার বহুকৌণিক মনোভঙ্গি। এমন স্যাঁতসেঁতে আমার মনবসতের ঘর। এমন বিকট বিটকেল বিকচিত আমার একলা বারান্দায় পায়চারিবিলাস, অন্ধকারে, খুব ঝুঁকে। যখন চাঁদের গা থেকে টসটস ক’রে গলে নামছে যষ্টিমধু। যখন নান্দনিক বিপর্যয়ে আমরা যারা স্থলিতপদ ও ব্যক্তিত্ব তারা পিঠ বাঁচানোর একটা যুৎসই ছুঁতো খুঁজছি৷ তখন ওইখানে, দামোদরে, বয়ে যাচ্ছে জল আর আকাশে অগুণতি সব গ্রহতারকারা। জাল ফেলে মাছ ধরছে কয়েকটি মানুষ। এইবার জালে আঁটবে চারাপোনা, দিনের খোরাকি। অসীম আকাশে মকমক শব্দে খেলা করবে ব্যাঙ, সাপ, মানুষের নিরন্তর সর্পিল প্রয়াস।

আমার কবিতা

চাঁদের একটি ফালি আকাশে হাসছে আর ফেসবুকে একা একটা গাছ ডালপালা মেলে দিচ্ছে সারা স্ক্রিনজুড়ে। এইসব দেখি। ভালো লাগে। এখন লেখার মানে বিষয়হীনতা। এখন লেখার মানে নিজেরই অন্তর্গত কিছু। মগ্নচেতনার দানা খুঁটে খুঁটে আকাশে ওড়ানো। দক্ষিণদিকের কোনো গরিবিয়া বাগানবাড়িতে একা একা গাছ দেখা, হেলে থাকা, বাজ পড়া গাছ। গাছের মধ্যে থেকে নিজের দুর্দশা খুঁড়ে আনা। সোঁদা সোঁদা মৃত্যুভয় আনা। পাতা নেই ডাল থেকে রৌদ্রময় আঁকিবুঁকি আনা। পরবের দিনে যাতে খুদেজলে অভাব না থাকে। যখন বিষয় নেই তখনও সহজে যাতে আসতে পারে আমার কবিতা।

CATEGORIES
TAGS
Share This

COMMENTS

Wordpress (1)
  • comment-avatar
    দেবলীনা 3 months

    খুব ভালো লাগলো