শাশ্বতী বসু-র গল্প ‘ লাফ’

শাশ্বতী বসু-র গল্প ‘ লাফ’

পার্কিং লটে গাড়িটা রেখে ছোট্ট কাঠের গেটটা খুলে রেস্তোরাঁর লনে ঢুকেই মনটা খুশি হয়ে ওঠে অনিমেষের । ঠিক এরকমটাই চেয়েছিল সে আজকের রাতের আসরের জন্য। নাতি প্রশস্ত আয়তাকার লনটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পাতা বড় বড় টেবিল আর চেয়ার । লনটির একপ্রান্তে ক্যামেলিয়ার সারি। বাঁ দিকে রেস্তোরাঁটি। ডানদিকে পাকদণ্ডী । হ্যাঁ । রেস্তোরাঁটি একটা ছোট্ট পাহাড়ের ওপর । অনিমেষদের জন্য নির্দিষ্ট টেবিলটি পাকদণ্ডী ঘেঁষে – যেখান থেকে সারা শহরের জোনাকজ্বলা দৃশ্যপটটি চোখে পড়ছে । অনিমেষ টেবিলে এসে বসে । ঝিঁঝিঁর ঐকতান ভেসে আসছে দূর থেকে । মাঝে মাঝে কোন গাছের ডালে রাতচরা প্রাণীর চলাফেরা । অনেক আগেই পৌঁছে গেছে সে । বসন্তর মাঝামাঝি – ঝিরঝিরে হালকা হাওয়ায় মৃদু ঠাণ্ডা আমেজ। অনিমেষ গরম পানীয়র জন্য বেয়ারাকে ডাকে। বাকিরা এখনো এসে পৌঁছোয় নি । আকাশে ম্রিয়মাণ তারার পাশে ঝকঝকে পূর্ণিমার চাঁদ । সাদা জ্যোৎস্নায় চরাচর ভেসে যাচ্ছে ।
সরি রে – একটু আটকে গেছিলাম ।
অনিমেষের চমক ভাঙ্গে । নিখিল ততক্ষনে টেবিলে রাখা পানীয় ঢেলে নিচ্ছে গ্লাসে।
আজ তো তোর টার্ন । স্টকে সত্যি কিছু আছে মালকড়ি ? না ঝেড়ে দিবি ?
গ্লাসে একটা চুমুক দিয়ে ঠোঁটকাটা সদাহাস্যময় আড্ডাবাজ নিখিল খ্যাক খ্যাক করে হাসে ।
না ওরকম বলিস না । অনিমেষ আমাদের সাধু সন্ত মানুষ । ও মিথ্যে বলবে না । দেখছিস না কি রকম মহর্ষির ধ্যানের স্থান নির্বাচন করেছে। মৃগাঙ্ক বসতে বসতেই ফুট কাটে।
যা বলেছিস । ফোড়ন কাটে স্বর্ণেন্দু । দলের সবাই এসে গেছে ততক্ষনে ।
বেয়ারা স্ন্যাক্সের প্ল্যাটার আর পানীয় নিয়ে আসছে । এই অনিমেষের দলটি এক আশ্চর্য খেয়ালে নেমেছে। সবাই মধ্য বয়সী, জীবনে মোটামুটি স্থিত । এরা ঠিক করেছে যে প্রতি মাসের পূর্ণিমা রাতে একসাথে কোথাও গিয়ে বসবে । বলবে জীবনের কোন ঘটনার কথা – যা এযাবৎ কাউকে সবটা বলা হয় নি – গোপন রাখা হয়েছিল । আজ অনিমেষের পালা ।
ছানার পুর ভরা একখণ্ড ক্যাপসিক্যাম মুখে তোলে অনিমেষ। চোখ সুদূরে স্থির।
সেদিন আকাশে চাঁদ ছিল না । ছিল ছেঁড়া ছেঁড়া ধূসর মেঘ । জলের বাষ্প সে মেঘে যথেষ্ট ছিল না যাতে অচিরেই ঝরে পড়তে পারে । পূবের হাওয়া বইছিল । একটু ঠাণ্ডা । হয়ত শেষ রাতে নামবে আবার । যা হয় এই বর্ষাকালে। ক্ষণে রোদ ক্ষণে বৃষ্টি । তবে বৃষ্টি সেবার অনেক বেশী । বন্যায় শহরের নিচু জায়গা গুলো ভেসে গেছে। মনে আছে রাত তখন এগারটা হবে । আচমকা ‘মুছে যাওয়া দিনগুলো আমারে যে পিছু ডাকে ……’ গানের সুরে জানলার সামনে এসে দাঁড়িয়েছিলাম । ছোট্ট মফঃস্বল শহরের সেই মাঝরাতে আমাদের বাড়ির সামনের নয়ানজুলির ওপর ক্যালভার্টে সত্যদা শুয়ে চোখে হাত চাপা দিয়ে গান গেয়ে চলেছে। বন্যার জল নয়ানজুলি ছাড়িয়ে রাস্তায় উঠেছে তখন ।
ফ্যাকাশে সেই জ্যোৎস্না রাতে নিঃশব্দ জলপ্লাবিত চরাচরে সত্যদার সেই গানের হৃদয় ভাঙ্গা আর্তি ছোট্ট আমাকেও স্তব্ধবাক করে দিয়েছিল । সেই সত্যদার সঙ্গে শেষ দেখা । আরও একবার দেখেছিলাম সত্যদাকে । তবে সম্পূর্ণ অন্যরকম ভাবে ।
আমাদের পাশের বাড়ির বারান্দায় তখন দেখেছিলাম আর একটি ছায়া মূর্তি । নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে । মায়াদি । সবাই বলে মায়াদির জন্যে সত্যদার মায়া আছে । তবে মায়াদির জন্যে কারই বা মায়া নেই ? আচ্ছা , মায়াদি কি সুন্দরী ? আমি সেটা বুঝি না । তবে মায়াদিকে আমিও ভালবাসি। মায়াদির সারা শরীরে চোখে অদ্ভুত এক স্নেহ ঝরে পড়ে সবসময় । মায়াদি ফর্সা নয় , লম্বা নয় – তার নাক খুব চোখা নয় – কিন্তু মায়াদি যখন কথা বলে তখন কী ভালই যে লাগে । মায়াদিকে কখনো স্কুল বা কলেজে যেতে দেখিনি । দাদার কঠোর শাসন ছিল ওঁর ওপর । অথচ মায়াদিদের বাড়িতে দেখতাম রোজই একটা লোক গাড়ি থেকে নেমে টুক করে ভেতরে ঢুকে যায় । লোকটা যে কখন ফেরে সেটা কোনদিন দেখিনি । মায়াদির বাবার ছোট্ট শাড়ির দোকান । বাড়ির সঙ্গেই লাগোয়া । হয়ত লোকটা শাড়ি কিনতে আসে সাব্যস্ত করেছিলাম।
মায়াদি আমার দিদির বন্ধু । পাশাপাশি বাড়ি আমাদের । সামান্য একটা উঁচু বেড়া ডিঙ্গিয়ে অনায়াসে যাওয়া যায় । দিদির সাথে মায়াদিদের বাড়িতে মাঝে মাঝেই যাই । তবে দিদি সামনে দিয়ে আর আমি পেছন দিয়ে । ওরা সারাক্ষন গল্প করে যতক্ষণ একসাথে থাকে। আমাকে ঘেঁষতেই দেয় না কাছে । বলে –
‘পেয়ারা খা না গিয়ে ’ বা অন্যকিছু ।
ওদের পেয়ারা গাছটা বেড়ার ধারে । অনেক দূরে । সেখানে গেলে দিদি আর মায়াদিকে একদম ছোট্ট দেখায়। সেখানে একটা চৌবাচ্চা আছে । মাটির নিচে। ঢাকা দেওয়া থাকে সব সময় । ঢাকনাটা মাটির ওপর এমনভাবে থাকে যে বোঝাই যায় না যে ওখানে একটা চৌবাচ্চা আছে । আসে পাশে রকমারি গাছ – তাদের বড় বড় পাতা । আর এই দিনের বেলাতেও ঝুঝকো অন্ধকার । সেই অন্ধকারে কেমন ভয় ভয় লাগে । মনে হয় কোথা থেকে কে যেন তাকিয়ে আছে । প্রসূনদার কথা মনে হয় । প্রসূনদা গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলছিল ঘরে । মাকে লুকিয়ে আমি দেখতে গেছিলাম প্রসূনদাকে । সে কী ভয়ঙ্কর চোখ তার। ঠেলে বেরিয়ে আসছে। মা কাঁদছিলেন , বলছিলেন ‘আহা রে ! কতো কষ্টই না পেয়েছে ছেলেটা’ ।
দিদিরা যখন আমাকে সরিয়ে দেয় ওদের সামনে থেকে তখন আমি প্রায়ই ঢাকা চৌবাচ্চার প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে আটকান ঢাকনাটা খুলে ভেতরে গিয়ে বসি। খুব নিশ্চিন্ত লাগে । একদম ভয় করে না । পকেট থেকে ফল কাটার ভাঁজ করা ছুরিটা বের করে পেয়ারা কাটি ।
একদিন চৌবাচ্চায় বসে আর ভাল লাগছিল না । আমি দৌড়ে দৌড়ে দিদি আর মায়াদি যে ঘরে আড্ডা দিচ্ছিল সে ঘরের জানালায় এসে উঁকি দিই । ওমা দেখি সেই গাড়ি করে আসা লোকটা ! তেলতেলে চুল পাট পাট করে আঁচড়ান। এতো বড় মুখ । গালে একটা বড় কালো আঁচিল । সরু গোঁফ । দাঁত গুলো ফাঁক ফাঁক। পান খাচ্ছে । হাসি হাসি মুখে গা এলিয়ে চেয়ারে বসে আছে । মায়াদি সামনের তক্তপোষের কোনে পা ঝুলিয়ে বসে । মুখ নিচু । আঙ্গুলের নখ খুঁটছে । লোকটা হেসে হেসে কী যেন বলছে। আমার কী রকম একটা লাগলো । আমি ছুট্টে বাড়ি এলাম ।
দিদি দিদি ওই লোকটা কে রে ?
কোন লোকটা ? দিদি ভুরু কোঁচকায় ।
ওই যে গালে আঁচিল – তেলতেলে চুল – মায়াদিদের বাড়িতে …
তোমার কী দরকার এসবে ? দিদি বিরক্ত হয়ে চলে যাবার জন্যে পা বাড়ায়।
ও ভাবে কথা বলছিস কেন ? কার কথা জিজ্ঞেস করছে পুলু? মা বলেন ।
হ্যাঁ ওকে এখন লক্ষ্মণ চৌধুরীর কথা বলতে শুরু করি – তুমিও না – বলে দিদি সত্যি সত্যি এবার ঘর ছাড়ে। মা সঙ্গে সঙ্গে চুপ করে গেলেন।
লক্ষ্মণ চৌধুরী – নামটা মনে রেখে মুশকিল আসান পাড়ার অভ্রদার কাছে গেলাম। সে আমার ভীষণ প্রিয় দাদা, সব প্রশ্নের উত্তর দেয় । আমায় একদম ছোট বলে ‘তোমার এসবে কী দরকার’ , এসব বলেই না । অভ্রদা বলল , মায়াদির বাবা, লক্ষ্মণ চৌধুরীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিলেন কী কারণে সেটা এখনো শোধ করেন নি। শোধ করতে পারছেন না আর কী । সেই সূত্রে যাতায়াত । তিনি মায়াদিকে বিয়ে করতে চান। যদিও তিনি বিবাহিত । বড় বড় ছেলে মেয়ে আছে । সত্য বড় ছেলে।
অ্যাঁ ! সত্যদার বাবা লক্ষ্মণ চৌধুরী ? আমি অবাক । ওই বিচ্ছিরী লোকটার ছেলে সত্যদা ? যে ছোড়দাদের ক্লাবের বেষ্ট ছেলে ? যে ক্যালভার্টে শুয়ে রাতে গান করে ? কী ভাল গান গায় সত্যদা । তাই মায়াদিও এসে দাঁড়ায় বারান্দায় । দাঁড়াবেই । আমি দেখেছি । সত্যদা নিশ্চয়ই মায়াদির সাথে গল্প করতে চায়। অবশ্য বিয়ে কী করতে চায় ওর বাবা লক্ষ্মণ চৌধুরীর মত ? কে জানে ? খুব গোলমেলে ব্যাপার । লক্ষ্মণ চৌধুরীর অনেক টাকা । এ শহরে তার বিশাল বাড়ি। আর কতো যে জমি তার শেষ নেই । তার মহাজনী ব্যবসা । লোকে তার কাছ থেকে টাকা ধার করে শোধ করতে না পারলে তার জমি বাড়ি যা থাকে লক্ষ্মণ চৌধুরী গুন্ডা লাগিয়ে দখল করে নেয় । দরকার হলে নাকি সে খুন করায় লোককে । অভ্রদা বলল।
এই ছোট্ট শহরে জীবনে ছোট একটি ঢেউ উঠলেও তা চারদিকে ছড়িয়ে যায়। অবশ্য ঢেউ সহজে ওঠে না । জীবন এখানে নিস্তরঙ্গ । মানুষ শান্তিপ্রিয় । তবে ঢেউ এবার উঠলো ।
জানো রাজেনটাকে কে যেন খুন করেছে ? গত রাতে ওর ডেডবডি ভেসে উঠেছে হাসপাতালের দিঘিতে। ঘাড় ভাঙ্গা । মুখটা একেবারে থেঁতলে দিয়েছে যাতে কেউ চিনতে না পারে।
বাবা চেম্বার থেকে ফিরে মা কে বলছেন শুনলাম ।
সে কী বলছ ! মা ভীষণ চমকে উঠলেন শুনে । কারা মেরেছে ? ও কী করেছে? কেন ?
বাবা চুপ করে রইলেন । মাথা নাড়লেন বিষণ্ণ মুখে।
মার চোখ ছলছলে। রাজেনদা হাসপাতালের চৌকিদার ছিল রাতের বেলার । আমাদের বাড়িতে আসত । মুখ থেঁতলে দিয়েছে? আহারে কী কষ্ট আর ভয়ই না পেয়েছিল রাজেনদা সেই সময় । মার কথাটাই মনে এসে গেলো ।
দুদিন পরে এবার ছোড়দার উত্তেজিত গলা শোনা গেলো দিদির ঘর থেকে ।
হ্যাঁ একই ভাবে মেরেছে দিনুকেও । লুকিয়ে ও কদিন ধরে যাচ্ছিল দিঘির পাড়ে মাঝরাতে । রাজেনদা কী করে খুন হোল এটা ওকে ভাবাচ্ছিল খুব । ও দেখেছিল হাসপাতালের গুদাম থেকে মাল চুরি করে ট্রাকে তুলছে কতগুলো লোক । দিনু চিনেছিল যে তারা সবাই লক্ষ্মণ চৌধুরীর লোকজন । সে নিজেও ছিল । দিনু বাধা দিতে গেছিলো । চার পাঁচজন একসাথে পেড়ে ফেলেছে ওকে । ঘাড় ভেঙ্গেছে , চুল উপড়েছে , হাত পা দাঁত কিছু আস্ত রাখে নি।

লক্ষ্মণ চৌধুরী ? দিদি চমকে ওঠে ।
হ্যাঁ । দিনুর সঙ্গে সত্যও ছিল । ওই পালিয়ে এসে থানায় বলেছে , তারপর আমাদের । এবার দেখনা কী হয়। ওকে আমরা ছাড়ব না। কেউ ছাড়বে না । ছোড়দা বেরিয়ে গেলো ঝড়ের বেগে ।
দিনুদা মারা গেছে ? ছোড়দা দিনুদা সব একই ক্লাবের মেম্বার। সব কাজ একসাথে করে । বন্যা , ঝড়, আগুন – দিনুদা ছিল সবার আগে । অরণ্যদেবের মত চেহারা । আমাদের প্রিয় সেই দিনুদা নেই ? লক্ষ্মণ চৌধুরী খুন করিয়েছে ? হাঁ হয়ে গেলাম । অস্থির লাগছিল ।
পরদিন বাবা এসে বললেন
– সত্য আত্মহত্যা করেছে ।
আমার চুল খাড়া হয়ে গেল । ছোড়দা কিছুক্ষনের জন্য বাড়িতে এসেছিল । বলে গেলো
– শহরের লোক খেপে গিয়ে লক্ষ্মণ চৌধুরীর বাড়ি লুট করছে , আগুন দিয়েছে। খুঁজে বেড়াচ্ছে লক্ষ্মণ চৌধুরীকে সারা শহরে । বিশেষ করে যে সব বাড়িতে সে যেত । তার খোঁজ নেই । আমি সত্যর কাছে যাচ্ছি ।
কিছুক্ষণ পরেই ছোড়দারা বন্যার জলে ডুবে যাওয়া রাস্তায় ভেলায় করে সত্যদা্কে নিয়ে যাচ্ছে দেখেছিলাম ।
আমি বুঝিনি যে উন্মত্ত জনতা মায়াদিদের বাড়িতেও চলে আসবে । আমি মায়াদিদের বাড়িতে ঢুকেছিলাম পেছন দিয়ে । যা সব সময় করি । চৌবাচ্চায় ঢুকে চুপচাপ একটু বসব বলে । কিন্তু যেন শুনতে পাচ্ছিলাম অনেক লোকের উত্তেজিত কণ্ঠস্বর বাড়ির সামনের দিকে । যেন কোলাহলটা ক্রমে এগিয়ে আসছে এদিকে। স্পষ্ট হচ্ছে। ঢাকনার প্লাস্টিকের দড়িটা টেনে অভ্যাস মত দুটো পা চৌবাচ্চার ভেতরে নামাতেই কিসে যেন একটা পা ঠেকে গেলো । চমকে উঠে পা টেনে নিলাম । ভাল করে নিচু হয়ে তাকাতেই দেখি একটা লোক উবু হয়ে বসে আছে । মুখ তুলে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। ভয়ে তার চোখ সাদা – থর থর করে কাঁপছে সারা শরীর । । কালশিটে পড়া মুখ । কপাল কেটে মুখ রক্তারক্তি , চুল উস্কখুস্ক । গালে একটা কালো বড় আঁচিল ।
কে এ ? এখানে এলো কী করে লোকটা ? কে ? চিনতে পারছি না তো ! কিন্তু চেনা চেনা যেন …… আঁচিলটা …… মুহূর্তেই চিনতে পেরে গেলাম । লক্ষ্মণ চৌধুরী । কিন্তু ওই চোখ ? – ওই ভয়ে সাদা হওয়া চোখ – ওতো লক্ষ্মণ চৌধুরীর নয় – ও চোখ তো প্রসূনদার -ফাঁস লাগিয়ে ঝুলতে থাকা প্রসূনদার। ‘আহারে কী কষ্ট’ ! মা যেন বলছেন শুনলাম । আমার হৃদপিণ্ড সহসা থেমে গেলো । বাড়ির সামনের কোলাহল ক্রমশ এগিয়ে আসছে এই পেছনে । কী যেন হয়ে গেলো আমার । এক লহমায় চৌবাচ্চার ঢাকনাটা বন্ধ করে দিলাম । বেড়া ডিঙ্গোতে যাব । হঠাৎ পেছন ফিরে দেখি প্লাস্টিকের দড়িটা স্পষ্ট হয়ে আছে ওপরে । ফিরলাম । পকেটের ধারাল ছুরিটা দিয়ে প্রাণপন শক্তিতে দড়িটা কেটেই জীবনের সবচেয়ে উঁচু লাফটা দিলাম ।
অনিমেষ থামল । একটা রাতজাগা পাখি ডানা ঝাপটে উঠে এক ডাল থেকে অন্য ডালে গিয়ে বসল ।

CATEGORIES
TAGS
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)