
তৃষ্ণা বসাক-এর কবিতাগুচ্ছ
ঝারসুগুদার হাটে
ঝারসুগুদার হাটে আমি হারিয়ে গেছিলাম,
একবার না, অনেকবার,
ওদের মহুয়ার তেলের গন্ধ মাখা শরীরের খুব কাছ থেকে আচমকাই হারিয়ে গেছিলাম।
কেউ বুঝতে পারেনি, কেউ খোঁজার কথা ভাবেনি , কেউ ভাবেনি চিতা মুখে করে টেনে নিয়ে যেতে পারে….
বড়া পাহাড়ের নিচে মহানদীতে আমি অনেক দিন নৌকো বেয়েছি, হাট ফেরত মেয়েরা উঠেছে আমার নৌকোয়, কানের সোনা নিতে না চাইলেও ওরা আমাকে সব দিয়ে দিতে পারত!
কিন্ত আমি শুধু ওদের পাখি দেখিয়েছি। কাস্তেঠোট, শামুকখোল, পানকৌড়ি…
আর ওরা আমাকে পরবে নাচতে নেমন্তন্ন করেছে।
যেদিন যাব ,আমি জানি, আর ফিরব না।
ঝারসুগুদার হাটের মেয়েদের কাছে গেলে ওরা আমাকে ওদের হাত আয়নায় আটকে রেখে দেবে…
সময় পাবে না
আজ একদম ও সময় পাবে না।
দূরে থাকে, সপ্তায় একদিন আসে, একটা রাত,
পরদিন সন্ধের ট্রেনে ফিরে যায়।
বৌ ঠেসে কাজ রাখে, মুদিখানা সব্জি মাছ, এসব আছেই, আবার নতুন ফ্ল্যাট দেখাতে দুপুরেও ধরে নিয়ে যায় ধূধূ প্রান্তরে।
ছেলের সমস্ত পড়া, বাবার চোখের ছানি, মায়ের গোপন নালিশ সব সব জমা থাকে।
ফেরার সময়ও পিঠে বেঁধে, আনতে ভুলে যাওয়া নকুলদানা
না খুঁজে পাওয়া বল, অর্ধেক শোলার বাড়ি, পোড়াতে পোড়াতে চলে আয়নায় আটকানো টিপ সারাটা রাস্তা।
এ লাইনে হরবখত ট্রেন লেট,
গভীর রাতে আধ চেনা শহরে নেমে ও কিছুতেই বাসা খুজে পাবে না। পেলেও তখন ঘুম ছাড়া কাউকে পাবে না পাশে।
আজ সারাদিন ও সময় পাবে না
আজ সারাদিন ও আমাকে ফোন করার সময় পাবে না।

