
পিউলি মুখোপাধ্যায়-এর কবিতাগুচ্ছ
বইমেলা
নয় নম্বর গেট দিয়ে ঢুকে ফুড-কোর্টের পাশে
চেনা স্টল, খুঁজতে অসুবিধে হয়নি
ফেব্রুয়ারির ফার্স্ট-উইকে তখন বসন্ত!
প্রথম তোমার সঙ্গে দেখা এবং
মেমোরি-বুকে নতুন অধ্যায় শুরু, তাতে
পরের বছর জুড়বে কি বিস্ময়-সম্পর্ক?
পরিচিত হাতছানি, দু-মলাটের ম্যাজিক
এই যে সবকিছু মিলেমিশে একাকার
বর্ণনায় বইয়ের পাতাও সাদা
কাউন্টারে বিখ্যাত নাম ধরে সাধারণ চোখ
উদ্যোগ সফল করে, সহজ সূর্যাস্ত-সূর্যোদয়
পাতা ছিঁড়ে নষ্ট হওয়ার কি কোনও মানে হয়?
টেনশন
জেনেবুঝে অমিল বাড়ছে তোমার সঙ্গে
টেনশনের একক ও মাত্রা নির্ণনের স্পর্ধায়
গিফ্ট বলতে একমাত্র আনন্দের আলিঙ্গন
একটা লাইন লিখতে যেমন এক মিনিট
যদি শব্দগুলো নিজেই আসে পরপর।
তবে জোর করলে, প্রতিধ্বনিতে অচেনা স্বর
দোলাচল শেষে আরও একবার
ফিরে এলাম তোমার কাছে প্রকাশ্যে
নিজের কাছেও, রিস্ক-ফ্যাক্টর শূন্য ধরে।
এ যেন সিন্ধান্তহীনতা থেকে উত্থান
বেঁধে থাকাতে বন্ধন-মুক্তির শ্বাস
ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মতো অসাম্য আশ্বাস
বুঝি, টেনশন তো দায়িত্বের ছদ্মনাম
আকাশে মেঘের চোরাবালি থেকে বিদ্যুৎ
যেমন বর্ষার নিশ্চিত শান্তি, স্থিতিশীলতা
তেমনই দুশ্চিন্তা উপসংহারে ভাঙে স্থবিরতা
নির্জন ভিড়ে
কুয়াশাভাঙা রোদ উঠুক মনে মনে
পরিচিতি
অল্প দিনে গভীর পরিচয়।
একটু পিছিয়ে এসে দূর থেকে দেখি,
সময়সীমা শেষ এবং তোমার মনের
পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আমার সামনে!
মৃত আত্মা নিয়ে ঘুরে বেড়ানো
মানুষের দলে ছুঁড়ে দিলাম তোমাকে
তৈলাক্ত রাজ্যে বিবর্ণ ঘনিষ্ঠতা খোঁজো
আদান-প্রদানের দাগ তো আমার অলংকার
নিজেই মনে রাখি, পড়ে দেখি বারবার
স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিক্রিয়ায় অনুমান মিলছে কি?
ভাবতে পারো অপরিচিত মনোবিদ,
অথবা শীতকালে জেগে ওঠা এশিয়াটিক লিলি
হারিয়ে গেলে চিনে নিও স্বাভাবিক স্বাচ্ছন্দ্যে
মুক্তি
সেলুলার জেলের বারান্দায় মুক্ত ফটোগ্রাফি
অবচেতন নিজের জন্য একটা সেল বেছে
তোমার চিন্তা ও চেতনা ছড়িয়ে দিতে চায়।
বাতাসের তীব্র ব্যাপনে গ্রহণযোগ্যতা
পরীক্ষায় বসছে, মনের দৃশ্য ক্যামেরা-বন্দি
দেখি রঙিন ফুল পেরিয়ে মাটিতে মেশা
প্রলোভন চিনে সাদাকালো হয়ে যাওয়া
প্রস্তুতি, আসছে শরীর পুজো দেওয়া
এককালীন মনখারাপের ঋতুতে স্বস্তি আঁকা
মুক্তি চেয়ে জড়িয়ে থাকার ধর্মে
ছাড়িয়ে নিচ্ছি বলয়সহ আমার পরিধি
ফেলে আসা পাপড়ি হাতে তৈরী করি ইস্টার লিলি
পরীক্ষা
উড়ো অক্ষরের গল্প চোখের সামনে
পরীক্ষা নিতে নিতে নিজেরও নাম খোঁজা
সবাইকে বোঝানোর মতো কিছু কথা
চাপা পড়ে নতুন শব্দের তলায়
বিভিন্ন অনুভূতির কোলাজ
অক্ষরে ফুটিয়ে তোলার প্রবণতা নিয়ে
লেখার টান সময়ের সমানুপাতিক, ক্ষণস্থায়ী
যে কোনও ক্লাস থেকে শিখে নিই জীবন
বন্ধু ভেবে জড়িয়ে থাকি, নিশ্চিত বিশ্বাস
কথা ফুরোলে তাকিয়ে থাকতেই কথা জমে
নীরবতা অতিক্রমে চিন্তার মিথ্যে জাল
চুপ থাকায় সংলাপ বসে না কখনও–
এই সহজ সত্যি অনেক ভাষায় খাতায় লিখি
অনুত্তীর্ণ বিবর্ণতা কাটিয়ে রোজ পাখি ডাকে
জানলার পর্দায় প্রাক্তন মুছে বাগান আঁকি,
ধাপ পেরোনোর উদযাপনে স্পাইডার লিলির ঘ্রাণ!
হাত
যে কারও হাতে হাত রাখা বারণ।
প্রয়োজনে যখন অসহ্য নিজের স্বর
অতীত মোছার আয়োজনে অলস স্মৃতি;
বুঝি আমার ছোঁয়ার পরে
কেউ এসে চুরি করেছে গতি…
স্পষ্ট দৃঢ়তায় পিছিয়েছ, এগিয়ে গেছি আমি
চিহ্ন থেকে বাঁচার আয়োজনে ত্রুটি ছিল না
শেষ পর্যন্ত সেই জিতে গেলে,
হারিয়ে ভবিষ্যৎ আয়োজন
কত প্রশ্নত্তরে ঢেউ ঘিরে ধরে, একা করে
দূরে পাঠিয়ে রাখি তোমার মন
তবু তুমি ধরলে যদি থামে লেখার হাত!
রাজি, এখন ভাগ্যের হাতে জীবনের ঘূর্ণবাত

