
অর্ঘ্যকমল পাত্র-র কবিতাগুচ্ছ
ত্রিনয়নী-কে
তৃতীয় পুরুষ আমি সহসা পড়েছি ঢুকে তোমার উঠানে
তোমার বাগানে যত বকফুল, তারা ঠিক-ই জানে
তোমার দয়ালু মন, কীভাবে যত্ন করে
কীভাবে জলের গ্লাস, ঠান্ডা বাতাস দিয়ে
আমাকেও বসিয়েছ নিরিবিলি নিজস্ব ঘরে…
তৃতীয় পুরুষ আমি তোমার বেদনা শুনি বসে—
প্রথম পুরুষ আসে, কিছু পরে ফিরে ফিরে যায়
আমি তোনথেকেই যাই মাথায় বুলিয়ে দিই হাত
এভাবে তৃতীয় থেকে ক্রমশ দ্বিতীয় হই
অতীত গল্প শুনি, তোমার সে প্রথম পুরুষ
কীভাবে বানাল সেতু, তোমাকে গড়ল এত স্নেহে
আমিও প্রথম হব, ফলত জানতে চাই
এতদিন কীভাবে কীভাবে — মায়ের আদর দিল
নাছোড় স্মৃতির ছলে বুকে দিল অনাবিল জোর!
আমার কিছুই নেই— থেকে যেতে পারি শুধু
ভাঙাচোরা দেহে পারি কেবল একটি ভোর
তোমাকেই পাকাপাকি স্মৃতি ভেবে হেসে দিয়ে দিতে
আমি তো ক্ষুদ্র কবি, প্রথম হবার নই
এসেছি দূর্ভাগ্যেই কিছুটা দেরীতে…!
আরোগ্য
আমার মনখারাপ হেলে আছে সূর্যাস্তের দিকে
এমন ভ্রমণ শেষে শ্মশানের ধোঁয়া দেখি দূরে
এতকাল এত পথ দমবন্ধে ঘুরে
মাঝেমধ্যে চেয়ে দেখি আমার ব্যাকুল ছায়াটিকে—
কীভাবে শূন্যতা টের পেয়ে গেলো সঙ্গে সঙ্গে চলে
এখন দু:খের কালে ঘুম চিনে নিই
বয়স বাড়ছে যত, তত বুঝি যেতে নেই
একাকী বিকেল এলে বহতা নদীর কোনো ধারে
মৃত্যু কি এতই দৃঢ় পরিত্যক্ত হৃদয়ের ভার নিতে পারে?

