সিন্ধু সোম-এর গল্প

সিন্ধু সোম-এর গল্প

হলুদকানাড়ির লোকে যে রাতে নিন্দকালো বর্ষা দেখেছিল

সে সব রাত-বিরেইতে ছোট খোট্টা বড় খোট্টাকে শুধাত, এই যে ড্যাম হইল, গাঁও কে গাঁও ব্যঙ হইল, উঠান হইল যেঞে করিডর আর মাঠ ট বর্ডার, সবই হইল লেকিন…ধুকুর ধুকুর পায়ে ইয়ারপর আসল প্রশ্নের পালা, কিন্তু সেখানে পৌঁছাবার আগেই গোলাগুলির আওয়াজে শুধানো তার যেত গুলায়ে। সেই গুলায়ে যাওয়া শুধানোর একপাশ দে অ-বাংলা ডাকাতগ্যালার বাইক একের পর এক সাঁদুইলে যেইথ হলুদ-কানাড়িকো পঁদে। পঁদ দে বিরালেই বিহার রোডের চিকনা গা। চোউড়া ছাতির পাল্লায় তার গতর কে গতর গাঁতায় উঠে। কোলিয়ারির বেলাউজ আর খানিক খুলে। ভক ভকে কালি জমে গাঁয়ের পাকা ছাতে। কলোনির কোয়ার্টারে চাঁদি মারা আলকাতরায় সে দাগ ফুটে না। ফুটে না হলুদ-কানাড়ির অ্যাসবেসটাসের ছাতেও। কয়লার বেলাউজ চুঁইয়ার যে মাল বিরায়, তার বড় হিসসা বিহার রোডের চোউড়া ছাতিতে তাপ খুঁজে। রোডের সিনা বেয়ে তখন কমলি-কালো উল্কি ধুঁয়ার কালি ছাড়ে। সে ধুঁয়ায় হলুদ-কানাড়ির লোকের চোখ জ্বলজ্বল করে। অভ্যেস। আপত্তির গলা ঘুঁটে বড় ঘটি মুয়ে তুলে চোঁ চাঁ চুমুক। ছাতুর ঘাঁটা ফিকা হয়ে আসে। বড় খোট্টার মনে তখন ছোট খোট্টার বকবক বসতে লাইরে।
ই গাঁয়ের ঐধার অ-বাংলা, এইধার বাংলা। একই বিস্তরে দুগো গার্জেনের মাঝঘেঁইষে শুয়ে গাঁয়ের লোকের মা বাপ গুলায়, রাতে ঘুম আসে না বহুতদিন। কয়লা আর কলোনির বিচ হাইফেন মাফিক হলুদকানাড়ির লোকেদের ঘুমের ইয়াদ তকখ বাঞ্জার। তাথে সুবিধাই। একদিকে খাড়া কানগোই পাহাড়। ইয়ার তল দে তল দে রেল আপন শহর ঘিরে লিইঞ্ছে। তাখে কুটুস চায়, আকন্দ ছেনালি করে। টুবা টুবা ফুল ঘিরে বেগুনি চাকলা। কলোনির লোকগ্যালা তার সাজার মর্ম নাই বুঝে। আরে সাইজথে তাকে হবেকোই। দেখ, আশিকানার একটা চাড় নাই? কেবলসের মরমুড়া লাশ তার আশিক। রোজ রেইতে হলুদ-কানাড়ির পঁদ ঘেঁষে ফুটে থাকা দেয়াল ও তার অববাহিকা বাওয়া রাস্তায় সেই লাশ হাঁটে, আওয়াজ দেয়। বাইকের ইঞ্জিনের পারা গড়গড়া সে আওয়াজ হলুদ-কানাড়ির লোক গিলে লেয় গলা তকখ। সোহাগের আশ মিটলে লাশের টুকরা চলে যায় অবাংলা হয়ে অতল। বেড়ার বাইর দিয়ে একটু একটু করে পাচারের আগে করা আদরের দাগ পড়ে থাকে। তাতে আরও আকন্দ হয়। চোরকাঁটা বাড়ে। খনির শ্বশুরবাড়ি মাফিয়াকুল। তাদের গুমর কিছু থাকে। মানে থাকতেও পারে। উয়াদের মুডের উপর পারার মিলাপ। আরও নানা হরমিলাত চিজ়। বাইঁধে বুইধেঁ বেয়াইবাড়ির কুটুমেরা ভটভটি ফুটকাঞি না-নিন্দ লাইড়ে মিলায় যায় অ-বাংলার কালিতে। ডাকাতের আনাগোনা এ পথে কমদিন লয়। সে কেবলস্ বেঁচে থাকতেও প্রায়দিন কিছু না কিছুর পায়ের আওয়াজে গাঁয়ের রাস্তা চকিত হত। কখনো চাকা, কখনো সরকারি বুট। দু টিমের টুকচা গোলাগুলির মাঝে আকন্ঠ ঘুম আর জলের পিয়াসে কানগোইতল ধুইষ্টা। চোরকাঁটাদের চখ জ্বল জ্বল। দিন কে দিন জল ছাড়াই ব্যাঙগ্যালার আদুরে ডাক হলুদকানাড়ির লোকেদের নাক আরও আরও চেপে ধরলে আদর ফির গদগৈদ্যা হয়। ভৈসার বাঁট নাই শুখাইতেই চায়। বরাকরের জল এই তকখ বয়ে আনা চাপ। কেবলসের দিঘি মরা। বাবু নাই। জল নাই। বিচার ট দেখ ক্যানে! ইদিকে বাজার পড়ে না। বাজার মরেও না। আশকে পাশকে এক অরূপ ঘোষের বাপের সেই এক টই গরু। সতীশ মাহাতো তকখ গোয়ালাগিরি থেকে রিটায়ার কইরিছে। ভাবা যায়! দুধের ডিমান্ড কমে না। গোটা এলাকার প্রেসার লিঞে হলুদকানাড়ি খটখটি ছানে। জল হইলে অল্প সুবিধা। এইখানে আইসে আর অভ্যাস পুইষাথে লারে। মেঘগ্যালা বাইনচোত সব বাবু হইঞে গেইঞ্ছে, লয়! পাহাড়ের ওপারে রেলকলোনির মাথা অবধি কম্বল টানা ঘুম। উয়াদের ডেম আছে, হিলটপ আছে। হিল্টপের টঙে উয়ারা ট্যং তুইলিছে গেইদে দিন। উয়াদের আর কী!

ডাকাত কুটুমদের পিছে পিছে হলুদ কানাড়ির চৌহদ্দিতে এসে বাংলার রাস্তাও খানিক দূরে থমকায় যায়। বেঙ্গল পুলিশ তো বাংলাই। সে হলুদকানাড়ির বুক পেরায় অবাংলায় যাইথে লারে। উ আশিকও লয়, উয়ার পারমিশানও নাই। বর্ডারেই যত হম্বিতম্বি। হাজার হোক, লিখা লিয়ম বৈলে কথা। আর চৌহদ্দির বাইরে আশিয়ানা, জামাই-আদর বা বড় দাদাদের হুব্বাতুব্বা চিত্তরঞ্জন পুলিশের সজোরে ডাকতে থাকা নাকের চেইড়ে ইপাশ থেকে উপাশটথে ছিটকায় যায়। নাক কি কম ভাব, লাকি! ভিতরের চালানেরাও এ সীমানায় হাত খুলে খেলতে পারে না। তাই তাদের ইন্টারেস্ট কম। তিনমুখো পেচ্ছাপের কাটাকুটিতে হলুদ কানাড়ির লোকেরা রাত কে রাত আকাশের দিকে তাকায় থাকে। এমনই এক অভ্যস্ত অথচ অভ্যসের বেশি আশিয়ানার কাজলা রাতে বড় খোট্টাকে শুধাইতে গিয়ে থমকায় যায় ছোটখোট্টা। কাঁচা কয়লার কমলি আভায় খোট্টার প্রশ্নভোলা বোবা চোখ জ্বল জ্বল করে। গাঁয়ের যনটুক বেঙ্গলের আওতায় সেখানে পুলিশ মদ্দ। ভালোই ঢুকে। রাত হৈলেই তার ঢুকার পিয়াস বাড়ে, বাদামি বন্দুক ছটফতায়, লাঠির গায়ে ঘাম জমে। বস্তি তছনছ, বসত তছনছ, গর্ত তছনছ। ঠাপ মাস লাড়ে রাউতবাড়ি তকখ। খাতায় কলমে তদন্ত লাগে তো! দু এক পিস মাল তুলতেই হয়। বাধ্যবাধকতা আর কি! পুলিশের হাত যে জোরা, আর কিছু চুকাবার উপায় নাই, তৃণমূলের ছিলারা বুঝায়, বাপেরা মাঝে মাঝে উকা ছুঁইড়ে মারে। ছিলা ট্যানা সামহোলে দেএদ্দৌড়। রাতে এক ট চ্যাপ্টা টিভি আসে। বাপ শান্ত হয়। টিভি ফ্রিজ পেরায় সব বাড়িতেই। এদিকে মাথার উপর টালি, লয় অ্যাসবেসটস। দু তলে বাড়ি কি নাই? এই রাউতবাড়ির খাঁই দেইখিছ? শালার ঝাঁ ঝাঁ রঙ, দুইটা এসি, হাঁসিপাহাড়ির মাঠের পারা ছাত। উয়াদের দেমাকোই দেমাক। কিছু কইরথে পারল তাথে? টিভির ভিতর হলুদকানাড়ি নাই, ফ্রিজের ভিতর নাই, এসি রুমেও নাই। হলুদ কানাড়ি ঐ কমলিকালা আগুনের নিচের থেকে নিচে চিট। কাগজে কলমে ভৈঁসার গাঁ। বাবুরা ভিড়ে না। অথবা ভিড়ে। এক দুধ লিথে, দুই, বাইক থামায়ে মুইতথে। আরে আপনার একটা কমন সেন্স নেই? এইসব গাঁয়ের চেহারা দেখেছেন? একে বর্ডার, তার উপর ছোটলোক, সব স্মাগলারদের বাস, গুণ্ডাদের এলাকা। আপনি এখানে দাঁড়িয়ে পড়লেন? আরে, এগোন এগোন। ইয়াও। বর্ডারের এইসব গাঁ যে ক্রিমিনালভোগ্যা বা ক্রিমিনালচোদ এবং ক্রিমিনাল উৎপাদনে উর্বর, তা পুলিশের রেজিস্টার জানে হাড়ে হাড়ে, জানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। বুঝলেন? হয়েছে? নিন বাল, নুনু ঝেড়ে জিপার টানুন, এগোন! হলুদকানাড়ির সারি সারি গোয়ালের সার সার ভৈঁসা সে রেজিস্টারের দিকে পিছন ফিরে নাদে। উদাস চোখে কানগোই পাহাড়ের দিকে চায়। নাকের ফুটো চাটে। জল নাই, বলে গায়ে কাদা মাখা তাদের আর হয়ে উঠে না। হলুদকানাড়িচোত পুলিশ নামায়ে কলোনি থেকে ডাবর মোড়, কলোনি ও ভদ্রলোকদের ভয় হড়হড়ায় নানাইন্দেওয়া যায় ভৈসাদের গাঁড়ে। নিজের পঁদ ট ঝাইড়েঝুইড়ে রাখে এম এল এ। আসনে দাগ যাথে না উঠে।
জাগা রাতে অমল রাউতের ঘুম আর আইসথে খুঁজে না। এখন বিজেপি ভাল্লাগা অমল এককালে কইরথ এস এফ আই। কলেজে উয়ার ভালো রবরবা ছিল। কপাল, বাইরে তেমন পাত্তা পেইলেক নাই। তারপরে সরকার গেল উলটায়। দুনো দিকেই। একদিকে রাষ্ট্রপতি শাসন। অন্যদিকে তৃণমূল। টিএমসিপি থেকে পি খইসতে খইসতে যায় পা ছুইলে। অবাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন আর গেল না। এদিকের বাসিন্দা অমল রাউত তৃণমূলকে চটায়ে বিজেপিতেও যাইথে লারে। হাত তার নিশপিশায়। কটা আর ভোট গাঁয়ে। ঠেকে তাই পার্টিতে বরাত খুলে না। নেতারাও পাত্তা দিথে খুঁজে না। কয়লা মাফিয়া কাম প্রোমোটার চরণকে ধইরে সে কলেজের রবরবা চুষায়। এই এক ট ক্লারিক্যাল পোস্ট। তাতে কইরে হলুদকানাড়ির লোকে যাথে থানায় ঝামেলা না করে সেই টর বন্দোবস্ত পাকা করে দিথে হয় অমল রাউতকে। ইয়াতে অবশ্য তার তেমন অসুবিধা ছিল না। টাকা পয়সা তার আসে কম না, সরকারি চাকরি থাকা মানে গাঁয়ে এক ট ইজ্জতের ব্যাপার। পার্টিলাইনে খুব বেশি উইঠবেক নাই, বুইঝে লিঞ্ছিল। কলোনির ছিলা কি আশপাশের দশটা গাঁয়ের ছিলাও ইজ্জতোই করে কলেজকে। কিন্তু এই যে রাত বিরেইতে এম এল এ-র পুলিশ আইসে উয়ারও ঘরেও থাপ দিছে, এই ট কি জায়েজ বাত? নিজের গাঁয়ের দশটা লোকের সামনে তার ইজ্জত আর বাকিটা কী থাইকল? ইয়ারপরে কথা শুনাইথে গেলে শুইনবেক? আড়ালে নাই হাইসবেক? চোদ্দ রকম আলোচনা। বিজেপি-র পথ ভাইলে অমল রাউতের অল্প ফুলা বুক হু হু করে। কিন্তু কইরলেই তো আর হইল নাই, এই এথ কয়লা, এথ মাল! কমিশন হাতছাড়া হওয়ার ভয় তো আছেই, বড় খোট্টারও ভয় আছে। কখন কোথায় মাথা নাইমে যাবেক হুঁড়ালেও টের পাবেক নাই। কয়লার আগুন হাঁ ছাই তকখ গিলে ফেলায়। অনুযোগ সে অনেক দিন থেকেই কইরে আইসছে। এম এল এ হাত দিখায়। বলে “কলেজ ট মন দিঞে সামলা, বুঝলি অমলা, কলেজে গেইদে পাওয়ার!” তা সেই পাওয়ারই বিরাছে গাঁড়ের দাদনে। কথা ট ঘোরের বশে নাকি বিরক্তির জ্বালায় সে বলেই ফেলায় উপাড়ার বিজেপির মাস্তান সিং-কে। সিং-এর সঙে উয়ার দোস্তি বচপনের। এক সঙে জোড়তলে মালটালও খায়। কলেজের বাবু ছিলারাও পায়ের ফাঁক টথে ঘুরঘুরায়। তাই পুষায়ে যায়। কিন্তু বাইর টথে আর বিরানো হৈল নাই, সিং! আরে মাফিয়ার ছিলারা বাইক লিয়ে যাবেক আইসবেক, সেই টর জন্য হপ্তায় হপ্তায় সেটলমেন্ট, লয়? ইয়ার পরেও হাড় ঢ্যামন চুতিয়ারা ঘরদোর উল্টায় দিঞ্জায়! এথ তদন্ত এথ পোংটাগিরি ক্যানে? রাউতবাড়ির বার তকখ দেখাইলেও তো হয়, নাকি? কলেজের ছিলাগ্যালাই বড় হৈলে এই রাস্তা মাড়াবেক নাই! ইদিকে আইসবেক শুধু দুধ ট লিথে। চুইষচুইষ্যা খরিদ্দার! চুহ্ চুহ্! এম এল এ-টও হৈঞ্ছে তেমন পারা। লোক খারাপ লয়। কিন্তু শালির মেয়ের মুখের সঙে এম এল এ-র মুখের যা মিল যা মিল! এই টও মিছা লয়। বাবাআআআ! সিং-কে নিজের বিজেপিতে যাইথে চাওয়ার কথাটাও বোধ হয় উ বইলে ফেলাইঞ্ছিল। অথবা বলে নাই। কিন্তু সিং শুনে। তাথে কইরে খবর বিক্রির কটা টাকা ঘরে আইসলে নিজের গোয়ালের দেওয়াল পাকাপোক্ত করে ফেলায় সিং। আর সেই গোয়ালের পঁদ দেই এমন আরেক গুলিগোলার রাত আইসে উঠে হলুদকানাড়িতে। পুলিশ আসে আওয়াজে চাইপেই পেরায়। সে রাতে ডাকাত খুঁজতে আইসে রাউতবাড়ির এসিআলা বেডরুমের লাগোয়া বাথরুম থেইকে অমলের বুনকে তুলে পুলিশের গাড়ি। হলুদ কানাড়ির জাগা লোকে সেই রাতেও উয়াদের বন্দোবস্ত ভুলে না। শুধু বিটির পিছে পিছে অমলের মা বুড়ি কাঁইদে কঁকায় বাধ সাইধথে আইলে উঠানের তুলসিতলায় তার ঘাড় রাইখে বুট চালায় অফিসার। ঘাড়ভাঙা নিথর বডি তখন লাট খায় গোল থেকে গোল, গোল থেকে গোল, গোল থেকে গোল। লাট তার ফুরাথেই খুঁজে না, দেইখিছ! অমলের বুন আর ফিরে না। মায়ের বডি উঠানে ফেলায় রাইখেই উলটানো বাড়ি দুরস্ত হাতে সোজা করে অমল রাউত। টিপটপ ঘর দেখে বার খতক। এসি ট বুজায়। তারপর উঠান ছাড়ায় গ্রাম ছাড়ায় সিধা কানগোইয়ের গোড়ার দিকে হাঁইটথে থাকে। হলুদকানাড়ির জাগা জাগা চোরকাঁটাদের মাঝ দে হাঁইটথে হাঁইটথে লুঙি উয়ার কর্কশ হঞি উঠে। ঠিক সে সময় অমল রাউত সবার প্রথম খেয়াল করে ঝুপড়ি ট।
পাহাড়ের পশ্চিম ঢালে রেল দেয়ালের অন্ধকার দিক টথে তাড়ির দুকান দেইখে সে একটু অবাকোই হয় নাকি! খেজুরের গাছ তিনটা তো ইখানে নাই ছিল! আর তাড়ির দুকানটাই বা হল কবে? ঘুমের পারা এই ঝুপড়ির হিসটোরিও হলুদকানাড়ির লোকেদের ইয়াদ থেইকে গায়েব। মনে পড়ে না। হাজার হোক রাউত তো গাঁইয়েরই লোক, বলো! কিন্তু হলুদকানাড়ির সারা রাত জাগা কুটকুটে কামড় এখন গলায়, গালের কাছ টথে হু হু ডাকে। গাঁয়ের ডানা গেইছে ছাঁটা। আর গাঁয়ের বাড়িতেও এক লেবেলে ফিরা সম্ভব না। কলেজে হয়তো সিমপ্যাথি জুইটে যাবেক। সেই ভিতেই পূজা হইল একরম। এম এল এ উয়াক দিবেক নাই বাইর টথে আইসতে। কলেজের দেয়াল, তার লাগচা দেয়াল মাথাসমান উঁচা হঞে উয়াকে ঘিরে ধইরলে উয়ার পিয়াস আরও আরও বাইড়ে যায়। হেঁসুইরথে হেঁসুইরথে টানে খোঁচে দুকান টথে এখন আর অবাক লাগে না। বরং টুকচা রাহতের আশ। না-ঘুমের দেশে এখন অল্প তাড়ি পাইলে মন্দ হৈথ নাই। ঘরে তো বিলাতি ছাড়া রাখাই যায় না। হাঁফ বাড়ে, হাঁফ ছুটে। এতক্ষণে মায়ের ভাঙা ঘাড় হালকা উঁকি দিঞ্জায় উয়ার মুখের ভিতর। শুকনা মুখে লালা কাইটথে খুঁজে না। ঘোরে আরও ঘোরে ঝুপড়ির দিকে এগায় সে। ঝুপড়ির সঙে সঙে স্পষ্ট হয় পিয়াস ও জরুরত। হাঁটা ধীরে ধীরে ছোটা হঞে উঠে। বাতা দিয়ে ঘেরা তাড়িখানার নিচু দোর দে ঢুইকে যায় অমল রাউত। ভেঙে দেওয়া ঘাড়ে হামাগুড়ির ব্যকরণ তখন উয়ার পেরায় মুখস্ত। আর কুনও দিন উ গাঁয়ে ফিরে নাই।
অমল রাউতকে গরুখোঁজা করে খুঁজেও পুলিশ যখন খোঁজ পেলে না, তখন এম এল এ একটু থমকায়। কলেজটা নিয়ে খাওয়াখাওয়ি তো কম দিনের না। এ পুরনো লোক। একে রিপ্লেস করবে অভীক। সে আবার মামা শ্যামাকান্ত উপাধ্যায় লবির। সব দিক ভেবেই কাজটা এগিয়ে ছিল। কিন্তু রাউত হারিয়ে গিয়ে এম এল এ-কে কামড়ায় দিয়ে গেল। এখন এম এল এ-র হাতে কলেজটা থাকবে কিনা এ ব্যাপারটা অনিশ্চিত হয়। মাথাটা গরম করা আদৌ উচিত হল কিনা এম এল এ এই নিয়ে একটু ধন্ধে পড়ে। অতটা না কড়কালেও বোধহয় চলত। পুলিশও খানকির বাচ্চা পুলিশ। যেখানে সুযোগ পেয়েছে নেচে কুঁদে জামাটামা খুলে লাট করে আসবে। কী বলা হয়েছিল আর কী করল! এখন এম এল এ-র মনে হতে থাকে, সিং-কে দিয়ে মামার লবি কিছু একটা চুকলি করেছে। ঐরম শালির মেয়েকে নিয়ে কিছু হয়তো অমল বলে নাই। তা ছাড়া কয়লা টয়লা পাস করাতেও একটু ভরসার লোক চাই। চরণের সঙ্গে এদের ভালো বোহাপড়া ছিল। এখন চরণ বেঁকে বসলে আরও সমস্যা। টাকা তো শুয়োরের বুকে পেটে আটকায় না! এমন কিছু একটা অ্যামাউন্ট চেয়ে বসল যে খবর বীরভূম চলে গেল, সেক্ষেত্রে সমস্যা। তবে সে চিন্তা তার বেশিক্ষণ থাকে না। চিন্তায় আর লাভ কী! যা হবার হয়েছে, এখন সামলানোর পালা। অভীকের ঠিক তলায় নিজের লবির কাউকে দাঁড় করাতে হবে। একদান মামা এগিয়ে থাকবে আপাতত। আর চরণকেও ম্যানেজ করা দরকার। ভাইকে পাঠায় এম এল এ। আর এইসব চিন্তা পাশ কাটায়ে ভাইয়ের সঙে পিঠাইকেয়ারিতে খুড়ির বাড়ি ঘুরতে যায় এম এল এ-র শালির মেয়ে। পিঠাইকেয়ারির পাশে ঈষৎ সন্ধেয় বিহার রোড দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে সে একদিন কাণ্ডটা দেখে ফেলে। সে দেখে বড় খোট্টার মতন একটা লোক টলতে টলতে যাচ্ছে পাহাড়টার দিকেই। তাড়ির ঝুপড়িটা তখনও তার চোখে পড়ে নাই। লোকটা আদতেই টলছিল কিনা তা জানা যায় না, কারণ টলার জন্য সে রাস্তা যতখানি মসৃণ দরকার ততখানি মসৃণতা বেয়ে সে এগায় নাই। অ-বাংলার মধ্যে দিয়ে যাওয়া বিহার রোড বিজেপির আমলে বেশ মসৃণ। তবে সেই চাকচিক্য বেশিক্ষণ সহ্য না করতে পেরেই হোক কি এথোড়ার মোহনায় ফেলা লাশটার ইয়াদেই হোক বড় খোট্টা তখন অনেকখানি গলে এসেছে। নরম অবস্থায় অন্ধকারে জ্যাবজেবে লোকটার আঁকাবাঁকা দাগ ধরে এগোতে গিয়ে এম এল এ-র শালির মেয়ে ঝুপড়িটা দেখতে পায়। ঝুপড়ির সামনে একটা ছোট্ট ভাঁজ দিয়ে অত বড় মানুষটা দিয়ে স্যাঁত করে মিলিয়ে গেলে ভিতর দেখার ইচ্ছেটা এম এল এ-র শালির মেয়ে ঝেড়ে ফেলতে পারে না। নইলে পাঁচগাছিয়া থেকে পিঠাইকেয়ারি এসে নতুন গজানো পেট্রল পাম্পের পিছনে পাহাড়ের গোড়ার দিকটায় তাড়ির দোকান দেখতে যাওয়ার তার কোনও যুক্তি ছিল না। কলোনি আর এদিকের গ্রামগ্যালার মাঝে পাহাড়টা দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়ে। সেই দেয়ালের আড়ে রাতজাগা চোরকাঁটাদের চোখ আর দোকান দেখে নাকি সে নিজেকে সামলাতে পারে নাই। অথবা দোকান তো দোকান, কয়লার কালিঝুলি মাখা সন্ধের একপাশে দশাসই লোকটির আকণ্ঠ পিপাসা তাকেও বুড়ি ছুঁয়ে দিয়েছিল। এ কথা অবশ্য সে বাড়ি ফিরে বলে নাই। কাজেই সামলাতে না পারার লাইন ধরে নিচু ঝুপড়ির দরজা আড় করা বাতায় উঠে আসে তার একটি চোখ। পাহাড়ের গোড়ায় ঝুপড়ির চারিদিকের চোরকাঁটারা মেয়েটির দিকে ঠার চেইঞে থাকে। কিন্তু তাড়ির দোকানের বুকে এক রকম মেদুর আলোর তলে নজর ঢুকিয়ে দিতে দিতে এবং দিতে মেয়েটির চোখ থেকে মুছে যায় পাহাড়, পেট্রল পাম্প, কয়লা, চোরকাঁটা, আমলাসোলের রেলনগরী কি কেবল নগরীর কঙ্কাল। চার্জারের করুণ আলোর সঙ্গে উনানের ওম মাখামাখি সে ঝুপড়ির ভিতরে একখানা পাতা চাটাই। সে চাটাইয়ের একপাশে এক কিন্নর বিরাট পাতিলে রস ফোটায়। আরেকটায় তৈরি মাল মজুদ। সেটা থেকে গ্লাসকে গ্লাস তরল নেমে যেতে থাকে বড় খোট্টার মতন লোকটার গলার ভিতরে। প্রমাণ হিসেবে গলার ডুগি সে লোকের ওঠে আর নামে। খোঁচা খোঁচা দাড়ির উপরে গড়িয়ে ঘোলাটে রস চোখ দিয়ে পুরাই চেটে নিতে থাকে এম এল এ-র শালি। সহজে বড় খোট্টার মতন লোকের নেশা ধরার কথা না। কিন্তু গলে আসা চোখের এক পাশে নজরকে টেনে বড় খোট্টার মতন লোকটি কিন্নরকে এথোড়ার মোহনায় নামিয়ে দেওয়া লাশের গল্প শোনায়। ঘুমের টান বড় টান। সে গল্পের গায়ে রাতজাগা চোরকাঁটার চোখ আরও বেশি করে বিঁধতে থাকলে রস নাড়া কিন্নরটি বড় খোট্টার মতন লোকটার দিকে দিকে ফেরে। “এত নেশা নেশা লাগো, তাও নিন্দ নাই হো। নিন্দ লাগাই খাতির গোটাদিন দৌড় হো। সাঝবেলায়, ঘার আও হো খালি হাত। গাড়ু তকখ নাই ভরে!” কিন্নরটি উঠে আসে। বড় খোট্টার মতন লোকটার নেশা আরও বাড়ে। “নিন্দাইল দিবে? এল্প নিন্দাইল?” কিন্নরটি তাকে বেঞ্চের উপর শোয়ায়। মাথায় হাত বোলায়। এতদিন বাদে বড় খোট্টার মতন লোকটার চোখে বাদলার পাহাড়ি ঝোরা কুলকুল শব্দ করে। পাথরের চাঁইকে চাঁই কাটে আড়াআড়ি। তারপর শায়া তুলে মুখে গুঁজে নরম তুলতুলে বাঁড়া। সেই রসের কল্যাণেই হোক, কি চোরকাঁটার তাগিদেই হোক, বাঁড়াটিকে মেয়েটির ঠেকে একেবারে আপন মাইয়ের বোঁটার পারা। নেশার ঘোরে বড় খোট্টার মতন লোকটার অতবড় দেহ সেই বোঁটা চুষতে চুষতে ক্রমে ছোট হতে থাকে। ছোট হলে তার ঘুম পায় খুব। ঘুমের ঘোরে সেই শিশু খোট্টার মুখ থেকে বোঁটা বেরিয়ে আসে। কিন্নরের শায়া তখনও তোলা। এইবার একটি পুরুষ্ট হাঁটু সে নামিয়ে আনে শিশু খোট্টার গলার উপর। বেঞ্চ ও হাঁটুর পারস্পরিক বোঝাপড়ায় ছোট্ট ঘাড়খানি মট করে ভেঙে যায়। তারপর দরজার জোড়া চোখদুটিকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে পা ধরে সে দেহটি তুলে নিয়ে যায়। মেয়েটির একটি চোখ তখন জোড়ায় বিকশিত। জোড়া চোখ জোড়া বোধ যায় তার পিছন পিছন। সেই তিনটি খেজুরগাছের সামনে পাহাড়ের দেয়ালের এপাশে ছোট্ট একটি গর্তে এঁটে যায় খোট্টার দেহ। উপরে কাঁকুরে মাটি চাপা পড়ে।
কিন্নরের কাছ থেকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা পেয়ে এম এল এ-র শালির মেয়ে ফিরে আসে ঘরে। তখন সবে রাত্রি ধরেছে। একটা মেঘলা তীক্ষ্ণ ঘোর তাকে পেড়ে ফেলে। সেদিন রাতে সে খায়, শোয় আর পাঁচজনের মতন। কিন্তু ঘুম নাই। না-ঘুমের দাঁত তার স্তনবৃন্ত থেকে পায়ের আঙুল তকখ ছিঁড়ে ফালা ফালা করে। কী এক ঘোরে সারারাত বিছানায় তার ছটফটানি স্তরের পর স্তর জমে ওঠে, বাসযুক্ত হয়। হলুদকানাড়ির চোরকাঁটাদের জাগা জাগা চোখ তার বদনে উপর নিচ। তখন পুব দিকে একটু একটু করে রক্তের দাগ। কুটকুটে সকাল, দুপুর, রাত, সকাল, দুপুর, রাত কাটবার পরে মেয়েটির অবশ শরীর আর সেই কথা চাপতে পারে না। তিনদিনের না-ঘুম দানা দানা ফুসকুড়ি হয়ে গত রাতের কথা ঘাই মারে। সেইসব ফুসকুড়ি কথা তখন উঠে বসে তার দুই খুড়তুতো বোন, খুড়ির ননদের ছেলে, পাড়ার ছেলে রোহণ মাজি, এবং রোহণের থেকে বয়সে ছোট তার মাসির কানে। সন্ধ্যায় রেলগেটের ওপার থেকে আনা সাড়ে পাঁচটার লোকাল লাগোয়া ফুলুরি আনে বেশি করে রোহণের মাসি। সেই ফুলুরি আর মুড়ি আকণ্ঠ গিলে ছ জন বেরিয়ে পড়ে। তখন সন্ধ্যার বেকারি জুড়ে মিঠা পচনের গন্ধ। কলোনির লোকেদের আঁঠা আঁঠা ভিড় সেখানে উপচায়। রেললাইনের ওভারব্রিজ ছাড়িয়ে অ-বাংলার ফটক। ছজনের ছায়া সেই ফটকের ফাঁক গলে তরল ভঙ্গিতে। পাহারাদার পুলিশটির চোখে খানিকক্ষণ এম এল এ-র শালির মেয়ের বুক ও পাছার খাঁজ আটকায় বটে, কিন্তু সন্ধের ফেনায় অন্য চারচাকার আলো সে রঙ ধুইয়ে দেয় দ্রুত। মেয়েটির না-ঘুমের খবর সান্ত্রীর দিমাকে পৌঁছায় না। কানগোইয়ের নিচে তখন ঝুপড়ির হালকা আভা। সেই ঝুপড়ির আশটথে পাশটথে দু দিনের শুখা মেয়েটির নজরের পিছনে এক অদম্য ডাক হয়ে ওঠে। এম এল এ-র শালির মেয়েকে ঝুম ঝুম চলে যেতে দেখে বাকিরাও পিপাসা হাতড়ায়। অজান্তেই পা তাদের ঝুপড়ি পানে ওঠে। একে একে সবাই ঢুকে গেলে রোহণের মাসি একা বাইরে থেকে যায়। কী জানি কারণে ভিতরে ঢোকার তার ইচ্ছা হয় না, অতহবা ইচ্ছা বাসবিকই হয়েছিল, কিন্তু কিন্নরের একটা অদৃশ্য বোধ তাকে ভিতরে ঢুকতে দেয় নাই। সে ফিরে এলে তার মুখে পাড়ার লোকেরা শোনে, সেদিন কিন্নরের শরীর জুড়ে নাকি চার-পাঁচটি বোঁটার স্ফূটন। দগদগে সেই চিহ্নদের ভিড়ে শরীরেরা কিছু শিথিল হয়। এম এল এ-র শালির মেয়ে সেই প্রায় নিভু ঝুপড়িতে ঢুকে বসে আগের দিনের বেঞ্চিটিতেই। বাকিরা দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর কোনও এক ঘোরের মধ্যে মেয়েটি রস জ্বাল দিতে থাকা কিন্নরের কাছে তাড়ি খেতে চায়। ঘুম ভিক্ষা করে। কিন্নর উঠে এসে শাড়ি খোলে, ব্লাউজ আর শায়াটি সরায়। তখন স্ফূটনগুলো দেখে রোহণের মাসির গলা অবধি বাধ ভেঙে আসে। বাঁড়া, অথচ দুধের বোঁটার মতো ছোট ও নরম। পাঁচজন একসাথে ঘুমের আংটি চোষে যেন, চোষে আর ছোট হয়, চোষে আর ছোট হয়। একসময় কাপড় ঝরে যায়, দৃশ্য ঝরে যায়, চেতনা ঝরে যায়। চাটাই মাখা ধুলোর বোধহীনতায় তার উপরেই অঘোরে ঘুমিয়ে পড়ে। ধীরে সুস্থে ঘাড় ভেঙে মৃতদেহগুলি পিছনে মাটি চাপা দেয় কিন্নর। তাড়া তার নাই। হলুদকানাড়ির সমস্ত সময় যেন তার হাতের মুঠায়। সে রাতে রোহণের মাসি এক বুক জ্বলন নিয়ে ফেরে। ফিরতে ফিরতে সে দেখে কানগোই দেয়ালের নিচে সারি সারি চোরকাঁটারা চোখ খুলে জ্বলছে আর নিভছে।
এম এল এ-র শালির মেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে খবরটা হু হু করে ছড়ায় যায়। মাত্র কয়েকটা দিন! চার চারটে অঞ্চল লোপাট। পুরাই ফাঁকা। একের পর এক সরকারী রিপোর্টার দেয়ালের নিচে হারিয়ে যেতে থাকে। খবরটা খুব দানা বেঁধে ওঠে না। এম এল এ তড়িঘড়ি শালির ননদের বাড়ি আসে। তার ভাই তাকে জানায় বড় খোট্টা নাগালে নাই। আর রাতজাগা হলুদ কানাড়ির কোনও লোকই এম এল এ-র কাজে তাড়ির ঝুপড়ির দিকে যেতে চায় না। টিভি ফ্রিজের লোভ দেখায়েও তাদের রাজি করানো যায় নাই। এ অবস্থায় মামার লবির ফায়দা কিছু আছে কিনা, থাকলেও এতগুলা ভোট হারায়ে তাদের আখেরে লাভটা কী এম এল এ-র মাথায় আসে না। নিউজ কিছু নিজেকেও চাপতে হয়। পার্টি কাউকে রেয়াত করবে না। কাজেই খবরটার উপর মোটা এবং পরিষ্কার পাছা রাইখে এম এল এ-কে বসতেই লাগে। অস্বস্তি কিন্তু কমে না। ঘুম ওড়ে ক্রমাগত। একের পর এক কয়লা মাফিয়ার নিখোঁজ। খবর আসে। ইনফরমেশনের মার্কেট তাদেরই সবথেকে বড়। কাজেই খবরটা তারা কানে না তুলে পারে নাই। সেই সব খবর নিরুদ্দেশের লেবেল পায় না। কারণ হতে পারে এই ব্যাপারে কিছু শোনার সাহস লোকজনের ছিল না, তাই তারা সাবধানে ব্যাপারটা এড়ায় যায়, আবার এও সম্ভব এম এল এ-কে যে না-ঘুমের ভূতে ধরেছে, এমন একটা খবর তারা পেয়ে গিয়েছিল। রাতজাগা চোরকাঁটাদের কথা ঠিক এ কান সে কান হয়ে কানের খোদলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। সেই খোঁদলে ওঠা কথা তাদের মাথা থেকে মাথায়, জিভে চোখে, নাকে, ঠোঁটে চারিয়ে যেতে থাকে এবং থাকে। ঘুমের পিপাসায় সভ্যতা ফ্যকাশে হয়ে আসে। একসময় যাবতীয় শোনা কথার ঝোলা পিঠে নিয়ে তারাও ফকির আদমি বনে যেতে থাকে। কলোনির কোয়ার্টার ধু ধু। একের পর এক তালা মেরে যায় হলুদকানাড়ির সুইপার। শপগুলি কর্মহীনতায় ধুঁকতে ধুঁকতে দেহ রাখে। বিশ্বকর্মা পুজোয় শপ দেখার লোক নাই। কেবল হলুদ কানাড়ির কয়েকটি রাতজাগা লোক ছা পোনাদের প্রত্নতাত্ত্বিক পাঠ দিতে আসে। না-ঘুমের কামড়ে অতিষ্ঠ এম এল এ কাঁচা খবর পোরা আগুনে চামড়া আর মোটা রাখতে পারে না। তখন এম এল এ-র শালির মেয়ের খোঁজে দু থানা উজাড় করে পুলিশ নিয়ে আসে। কিন্তু সালানপুর থানা এবং রূপনারায়ণপুর ফাঁড়ির পুলিশেরা কিছুতেই ঝুপড়িটিকে খুঁজেই বের করতে পারে না দিনের আলোয়। তারা হলুদকানাড়ির লোকেদেরকেই সন্দেহ করে। মাথামুথা ঠিক নাই, যৌনরোগের পয়দা, এরা কী সব গল্প ছড়ায় এরাই জানে। এইসব বলতে বলতে পুলিশের বড়কর্তাটির বুকের মাদুলি নিজের অজান্তেই খানিক কেঁপে ওঠে। গাঁ উপরে তুলে কেবলই ঝাড়তে থাকে পুলিশ। সারি সারি পুরুষদের বেঁধে হাঁটুর ওপর বাঁট দিয়ে আলপনা দেয়। দু চারটে মেয়েকে চেঁচড়ে নিয়ে যায় রেল কলোনির দেয়ালে ওপারে। কিন্তু যেই কে সেই। অমল রাউতের মতোই এম এল এ-র শালির মেয়ে অথবা বড়কর্তার মতে এম এল এ-র নিজেরই মেয়ে হাওয়ায় মিলায় গেইছে। খুঁজতে খুঁজতে সন্ধ্যা ঘন হয়। খালি হাতে পুলিশের রাগ বাড়ে আরও। এ সময় কানগোইয়ের নিচে চোরকাঁটাগুলি আবার জ্বলে উঠলে তারা চমকায়। তারা নিজেদের মধ্যে খোঁজ করে এবং দেখে এম এল এ নাই। তাদের মধ্যে থেকেই নিজের মুখের সঙে গেইদে মিলের মুখটি খুঁজতে খুঁজতে সেও বোধহয় ঝুপড়ির খোঁজ পায়। অথচ এও খবর হয় না। এরপরে পুলিশের গলার দড়িতে আরও ঢিল দেয় রাজ্য সরকার। কিন্তু চোরকাঁটাদের জ্বলতে থাকা চোখ দেখে যারা ফিরে এসেছিল, তাদের মুখে মুখে কথা ছড়ায় আরও দ্রুত। সেই সব রাতজাগা কথারা আকণ্ঠ পিয়াস লিয়ে মগজে আইসে বসলেই ঘুম ঝুরো ঝুরো। হোমিওপ্যাথি অ্যালোপ্যাথি ইউনানি–পুলিশ দৌড়ায় বেড়ায়। লাভ নাক্কোহ। ধীরে ধীরে এক থেকে দুই থেক চার থেকে ষোল—যৌনরোগে পয়দাদের বিকৃত মস্তিষ্ক প্রসূত কথাগুলিই বিশ্বাস করে ফেলে। ঘুমের পিপাসায় ভোর গলার দড়ি সমেত পুলিশেরা সারি বাঁধা পিঁপড়ার পারা সেই দেয়াল পায়ের ঝুপড়িতে এসে ঢোকে সময়ে অসময়ে কুসময়ে, এবং না-সময়ের বাসিন্দা হয়। ছড়াতে থাকা কথার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বড় হয় না-ঘুমের হাঁ। দাঁত একে একে কলোনি, মহকুমা, সদর, জেলা, মায় দুপাশের দুটি রাজ্যের সম্পূর্ণ ভেঙে চুরচুর করলে সেই দেয়ালের পায়ের নিচে মাটির তলায় স্তরে স্তরে ফসিল হতে থাকে। হলুদকানাড়ির দুপাশ তখন বেবাক ফাঁকা। পরিত্যক্ত বাড়িঘর কুয়ো একা একা হেঁটে ফেরে বিহার রোডের ঝাঁ চকচকে শরীরের উপর। বহুদিনের শুখায় মাটি থেকে দৃশ্য কেঁপে কেঁপে ওঠে। কিন্নরের গোটা শরীরে তখন ঘামচির পারা বিজবিজে লিঙ্গ। রাজ্যের ঘুমিয়ে পড়া রাতে কানগোইয়ের মাথায় খুব জোর বিদ্যুৎ চমকায়। ঘড়ঘড় ডাকে কিন্নর ঝুপড়ির বাইরে এসে দাঁড়ায়। তখন দেয়ালের এপারে ওপারে এক ফোঁটা কালো নিন্দ টুপ করে উয়ার আসন রাখে কিন্নরের দগদগে গায়। সমস্ত চোরকাঁটাদের দৃষ্টি মেখে কিন্নরের দুটি কোমল কাটারি চোখ কমলাকালি মেঘের দিকে তাকায়। এই সময় ধু ধু খাণ্ডার ধুইয়ে মুছে হড়হড় হড়হড় ঝাপুইসা জল। কমলাকালি মেঘ কাঁচা কয়লা বুজায় দিলে রঙ তার আন্ধারের গা ঘেঁষে আরও। এথ জল হলুদকানাড়ির লোকেরা দেখে নাই প্রায় পঁচাশ পঁচাশ বচ্ছর। পাহাড় ধুয়া জলে ভিগা ঝুম শরীরে কিন্নরের দৃষ্টি নিভে আসে ধীরে। আকাশের দিকে হাতগ্যালা তুইলে রাজ্যের কবরের উপর টথে দাঁড়ায় কিন্নরের ভিজা আর সতেজ শরীর গুঁড়া গুঁড়া হৈঞে ছড়ায় পইড়তে থাকে। অজস্র লিঙ্গ। ছোট ছোট। নানান রকম। সেই সব লিঙ্গেরা মাটির ফুটো থেকে ফুটোয়, পাহাড়ের গায়ে, হলুদকানাড়ির বস্তিগুলার টিনে, কলোনি শহরের মরা বুকের আনাচে কানাচে ছড়াইঞ্জায়। জলের তোড়ে সেই ঝুপড়ি কি তাড়ি কি কিন্নর কি খেজুরগাছ–সব্বোস্ব গেইলেক মুছে। শুধু বাড়তি রয় দুই সীমানার মাঝে দাগের পারা লাইগি থাকা হলুদকানাড়ির লোকগ্যালা। কয়েক জনম না ঘুমানোর রসুন রসুন ইয়াদ তাদের মাথায় তখনও কামড়াইঁ থাকে। তাড়ির না-ঘুম কথা তাই উয়াদের কানে কুনও আসর করে নাই। না-ঘুমের জ্ঞাতি উয়ারা, কথা উয়াদের কেমন কইরে কামড়াবেক? রাহত খুঁইজতে যাইথে হয় নাই উয়াদের। ঝুপড়ি ট মুইছে গেলে ভিজা উঠানের মাঝখানে ভৈসার নাদার ঝাপসা বু লিথে লিথে ছোট খোট্টার আপন প্রশ্ন ট মনে পইড়ে যায়। তখন সেই ফসিলের স্তরের উপর জ্বলতে থাকা চোরকাঁটা পেরায়ে তার চোখ ঠেকে কানগোইয়ের মাথায়। উঠানে দাঁড়ায়েই সে চিঁচায়, “নিন্দাইল নাই দিবে শালা বেহিনচোত? দিবে নাই নিন্দাইল?” তখন সেই নিন্দকালো বারিষের বড় বড় ফোঁটায় কানগোইয়ের মাথা ভাইলা চখ উ বেশিক্ষণ খুইলে রাইখতে লারে। প্রশ্ন মনে পড়ার কয়েক সেকেন্ডের মাথায় ভৈসার নাদা ভাসা সপসপে উঠানে উ বেঘোরে ঘুমাইঞ্জায়। সে রাতে হলুদকানাড়ির লোক উয়াদের বহুকাঙ্ক্ষিত চিজ ট পায়। চিহ্নহীন অথচ অজস্র চিহ্নযুক্ত মহল্লার বুকে অঝোর বৃষ্টি লিঞে উয়ারা এক রাত নিঃশব্দ ঘুম খায়। অ্যাসবেসটসের ছাত থেইকে ভুসাকালির নিন্দফোঁটা রাস্তায় মাথুর গায়ে ফিরে।

CATEGORIES
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)
demon slauer rule 34 lena the plug leak amateurtrheesome.com cumming in milfs mouth mujer haciendo el amor a un hombre, belle delphine of leaked emma watson in porn xxxamat.com big booty in public hidden cam gay sex, sit on face porn g a y f o r i t forcedpornanal.com please screw my wife female celebrity sex tapes
410 Gone

410 Gone


openresty