সব্যসাচী সরকার- এর কবিতা

সব্যসাচী সরকার- এর কবিতা

আমরা

নদীর ধারে কিংবা পাহাড়ে
আমরা বসেছিলাম।
জানতাম,
কেউ কোথাও পৌঁছব না।
আলো কমে আসছে,
এর পরে যে যার বাড়ির দিকে চলে যাব,
যেতে হবে।

হাওয়া বইছিল
হু হু করে—
আমাদের চলে যাওয়া
তুলে রাখছিল
সেলফোন।
ওই যেমন রাখে।
এর বাইরে
একটু দূরে দাঁড়িয়ে
আমার মাথায় ঢুকে পড়ছিল
কতরকমের তুমি-আমি আর
মন কেমন।
ঢাকুরিয়া ব্রিজ কেন
আর একটু লম্বা হল না,
কেন যে, কী ভাবে এবং
কোন কোন রাস্তায়—
কেন ওরা আমাকেই,
আমাদের ভিলেন ভাবছে…

 

 

 

নাগকেশর

গাছ তো অনেকটা,
কিছুটা সবুজ।
বাকিটা ধূসর ক্ষোভ,
হয়তো অবুঝ।
ফণা তোলা গাছ,
লতিয়ে লতিয়ে ওঠা
আদুরে বালিকা,
তোমার গলার কাছে
প্রদীপের শিখা।
গাছেরা দুলতে থাকে
আমি কেউ নই,
একদিন মাঝরাতে
আমি আসবই।।

 

বোধ

কে চলে যাবে,
আর কে আসবে,
তাতে কিচ্ছু এসে যায় না।
তুমি যেখানে পা ফেলছ, আর
যেখানে রোদ ওঠার কথা ছিল,
তার বাইরে
সাতশো বাইশ রকম কোলাহল,
বাহাত্তর রকমের বিষাদ
তোমার কোলে উঠবে বলে
কান্নাকাটি করছে।
দ্যাখো এসব সামলে
তুমি দাড়ি কামাবে কিনা।
বলবে কি মেয়েটিকে—
এত বড় গ্রহটায়,
কেউ কারও নয়!

 মাছি

তুমি ঘেঁটে দিলে,
আমি ভেসে গেলাম।
এত সহজ?
হয় না, হবে না,
থেকে যাব।
গভীর গোপন।
তোমার কানের কাছে,
মাছিরা যেমন।

গোপনীয়

এইসব গোপনীয় কথা,
যেটুকু রেখেছি তুলে,
বাকিটা ফেলেছি—-
তোমার চোখের দিকে
মেঘ চলে গেছে,
আমি তার পিছুপিছু
কিছুটা হেঁটেছি,
তার পরে পথঘাট
আবেগপ্রবণ,
পাখি হয়ে কুহু কুহু
ডাকবে কি কেউ—-
যদি ডাকে, আমি হব উত্তাল ঢেউ…

বিকেল

সেই এক ভাদ্র বিকেলে
তুমি একা উসখুস মেয়ে।
গড়িয়াহাটের কাছে,
চুল খোলা বাঘ
জাঙ্ক জুয়েলারি থেকে
ফিস ফ্রাই হয়ে
মোমবাতি হয়ে আছ,
এখানে ওখানে।
অবুঝ বিষাদ হাতে
সেলফোনে চোখ রাখি,
বারবার কল—
এভাবে কি প্রেম হয়?
এ ভাবে কি শাড়ির আঁচল?
পায়ের তলার মাটি,
সরে যায়, চারদিকে
জল শুধু জল।

 

 

 

CATEGORIES
TAGS
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)