শম্ভুনাথ দে (১ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৫ – ১৫ এপ্রিল, ১৯৮৫) <br /> জয়ন্ত ভট্টাচার্য

শম্ভুনাথ দে (১ ফেব্রুয়ারি, ১৯১৫ – ১৫ এপ্রিল, ১৯৮৫)
জয়ন্ত ভট্টাচার্য

 

১৯৭৮ সালে ৪৩তম নোবেল সিম্পোসিয়াম অনুষ্ঠিত হয়েছিল স্টকহোমে – আগস্টের ৬ থেকে ১১ তারিখ। এই অনুষ্ঠানের কো-স্পনসর ছিল বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (WHO)। এই সিম্পোসিয়াম থেকে প্রকাশিত হয় Cholera and related diarrheas : molecular aspects of a global health problem : [proceedings of the] 43rd Nobel Symposium (সম্পাদনাঃ Örjan Ouchterlony এবং Jan Holmgren) এই বইয়ে শম্ভুনাথ দের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয় এরপরে নেচার তুল্য জার্নালে ২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮ সালে এই বইয়ের একটি রিভিউ প্রকাশিত হয় রিভিউয়ে লেখা হয় – “Participants were reminded of how far we have come in a short time by the presence of one of the Indian investigators, S. N. De (Calcutta), who in the late 1950s first showed that the symptoms of cholera could be produced in laboratory models by cell-free products of the cholera vibrio.” (পৃঃ ১৭৩) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এ এক গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ।

 

(এ ডায়াগ্রাম থেকে বোঝা যায় কিভাবে কলেরা টক্সিন কোষের ভেতরে প্রবেশ করে সোডিয়াম এবং জল বের করে দেয় – উইকিপিডিয়া)

একজন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতনামা ইনফর্মেশন সায়েন্টিস্ট ইউজিন গারফিল্ড তাঁর “Mapping Cholera Research and the Impact of Sambhu Nath De of Calcutta” গবেষণাপত্রে (Current Comments, Number 14, April 1986) জানিয়েছিলেন – “De and colleagues also published highly cited pioneering studies on V. cholerae action on the intestinal membrane. The 1953 paper “An experimental study of the mechanism of action of Vibrio cholerae on the intestinal mucous membrane” is De’s most-cited paper, cited 340 times since its publication. De passed away just before we wrote to ask him for a Citation Classic@ commentary.”

রবার্ট কখ যেখানে থেমেছিলেন (কলেরার জীবাণুর আবিষ্কার) সেখান থেকে শম্ভুনাথ দে-র যাত্রা শুরু – তার পরবর্তী ধাপে এগিয়েছেন তিনি। ১৯৫৩ সালের অক্টোবর সংখ্যায় Journal of Pathology and Bacteriology-তে প্রকাশিত তাঁর পেপার “An experimental study of the mechanism of action of V. cholerae on the intestinal mucous membrane”-এ দেখালেন যে জীবাণুর শরীর থেকে নিঃসৃত এক্সোটক্সিন কলেরা রোগীর ডায়ারিয়ার কারণ। তাঁর এই গবেষণাপত্রে তিনি বিস্তৃতভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন কিভাবে খরগোশের অন্ত্রের ওপরে তাঁর পরীক্ষা করেছিলেন – “Rabbits weighing 1200-1500 g. were not allowed food or water for twenty-four hours. With aseptic precautions and local procaine awsthesia, a midline incision about two inches long was then made just below the middle of the abdomen, which was opened by cutting through the muscles and peritoneum. A segment of small intestine taken midway between its upper and lower ends was isolated with two silk ligatures; blood vessels were carefully avoided.” তাঁর এই পদ্ধতি পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক গবেষণার জগতে একটি গৃহীত পদ্ধতি হয়েছে। তিনি সম্ভবত এক্ষেত্রে পথিকৃৎ। এই পেপারে তাঁর সিদ্ধান্ত ছিল – “These results suggest that Vibrio cholerae alters the permeability of intestinal capillaries to proteins.”

অনেক পরে ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-এ (ফেব্রুয়ারি, ২০১১) রবার্ট হলের পেপার (“A De in the life of cholera”) দেখিয়েছে – “fundamental misconception in cholera pathogenesis was swept away when S.N. De used ligated loops of rabbit ileum to demonstrate lumenal fluid accumulation in the presence of Vibrio cholerae culture filtrates … The discovery was not so much ahead of its time as desperately awaited, but still De’s new model of pathogenesis had surprisingly little immediate impact. After a lag period of several years it was accepted, and a fresh generation of investigators boosted cholera from scientific obscurity to paradigm status.”

৩০ মে, ১৯৫৯-এ নেচার-এ তাঁর “Enterotoxicity of Bacteria-free Culture-filtrate of Vibrio choleraeপ্রকাশিত হয় গবেষণাপত্রে তিনি বলেন – “Two Ogawa strains of V. cholerae maintained for six months in the laboratory by fortnightly subculture on agar slopes, and two Inaba strains maintained similarly for about eighteen months have been used for this study.” (নেচার, ৩০ মে, ১৯৫৯, পৃঃ ১৫৩৩-১৫৩৪) এরপরে মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবরেটরিতে কিভাবে ইঁদুরের অন্ত্রের ওপরে কলেরা টক্সিনের পরীক্ষা করেছেন তার পূর্ণাঙ্গ এবং সংক্ষিপ্ত বৈজ্ঞানিক বিবরণ লিপিবদ্ধ করেন।

WHO- বুলেটিনে (Bull World Health Organ 2010; 88: 237–240) ক্ল্যাসিক পেপার (“From endotoxin to exotoxin: De’s rich legacy to cholera”) হিসেবে তাঁর কাজ গৃহীত হয় এই পেপারের পরিচিতি হিসেবে বলা হয় – “Between 1951 and 1959, Sambhu Nath De made crucial discoveries on the pathogenesis of cholera that changed the course of our understanding of the disease”। যদিও নোবেল প্রাইজ তাঁর কাছে অধরাই থাকে

রেজোনেন্স জার্নাল প্রকাশিত অন্য একটি প্রবন্ধে (“Life and Work of Sambhu Nath De”, অক্টোবর, ২০১২) দু’জন গবেষক দেখিয়েছেন – “De began his studies on the remarkable pathological changes in the kidneys in cholera cases which showed renal shunt mechanism in operation – a feature of many other toxic conditions. He published a number of papers on this topic between 1950 and 1955.”

ক্যালকাটা মেডিক্যাল ক্লাবে Dr. B. C. Roy Memorial Oration-এ (“Cholera Exotoxin – a delayed discovery”, মুদ্রিতাকারে অপ্রকাশিত) তিনি বলেছিলেন – “Vibrio cholera has now been promoted to the rank of few exotoxin producing bacteria. However, diphtheria exotoxin was discovered within four years of the discovery of the bacillus, tetanus exotoxin within six years and botulism toxin at the same time as the organism. It has taken seventy five years for cholera exotoxin to be discovered in 1959 after the organism was discovered by Robert Koch in 1884…”

নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী জোশুয়া লেডারবার্গ শম্ভুনাথের নাম নোবেল কমিটিতে সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাখ্যাত হয়। লেডারবার্গ শম্ভুনাথের উদ্ভাবনী ক্ষমতাকে দেখেছিলেন “iconoclastic creativity, experimental skill, and observational mastery” হিসেবে। কারেন্ট সায়ান্স পত্রিকা ১৯৯০ সালে (ভল্যুম ৫৯, ১৩-১৪ সংখ্যা, ২৫ জুলাই, ১৯৯০) শম্ভুনাথকে নিয়ে যে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে (পরে Supplement to Current Science নামে বই হিসেবে প্রকাশিত হয়) সেখানে লেডারবার্গের প্রবন্ধটির শিরোনামই শম্ভুনাথের গবেষণার গুরুত্ব বোঝানোর পক্ষে যথেষ্ট – “S. N. De – Regicide of Reigning Dogma” (পৃঃ ৬২৮-৬২৯)। তাঁর প্রবন্ধের শেষে লেডারবার্গ প্রশ্ন রেখেছিলেন – “Can we but still find a still deeper theoretical foundation for logical argument and expression in our arena of research?” (পৃঃ ৬২৯) শম্ভুনাথের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে বায়োলজিক্যাল সায়ান্সে গবেষণার অগ্রগতির লক্ষ্যে কথাগুলো বলেছিলেন লেডারবার্গ।

কারেন্ট সায়ান্স-এর পূর্বোক্ত সংখ্যায় জীববিজ্ঞানী W. E. van Heyningen একটি প্রবন্ধ লেখেন “The Berlin Cholera Conferences of 1984 and 1985” (পৃঃ ৬৫০-৬৫২)। এ প্রবন্ধে তিনি বলেন – “অবশেষে, ১৮৫৯ সালে, কলেরার বাস্তব চেহারা সামনে এল, এবং এটা বিস্ময়কর নয় যে এ ঘটনা ঘটেছিল কলকাতায়, যেখানে কলেরার প্রকৃত চরিত্র বোঝা গেল।” (পৃঃ ৬৫২) এরপরে শম্ভুনাথের কাজের মূল বিষয়ের আলোচনা করে বললেন – “His short letter to Nature (1959) 183, 1533, on ‘Enterotoxicity of bacteria-free culture of filtrate of Vibrio cholerae’ is a classic of medical and biochemical history.” (পৃঃ ৬৫২)

১৯৮৩ সালে প্রকাশিত (২০১৮ সালে পুনঃপ্রকাশিত) W. E. van Heyningen এবং John R. Seal-এর লেখা সুবিখ্যাত গ্রন্থ CHOLERA: The American Scientific Experience, 1947-1980–তে শম্ভুনাথ সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে – “in 1959, S. N. De of Calcutta very clearly demonstrated the existence in cholera culture filtrates of an exotoxin that mimicked the symptom of cholera that was responsible for all the ill effects of the disease, namely, the outpouring of fluid into the gut. In other words, cholera, like diphtheria and tetanus, was an exotoxinosis. But the significance of De’s discovery was not immediately grasped, and his historical paper went unnoticed for some years, even,

apparently, in the PSCRL (Patient Security Category Review List).” (পৃঃ ১৬৯)

কারেন্ট সায়ান্স-এর পূর্বোল্লেখিত সংখ্যায় আরেকজন কলেরা বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী Joh p. Craig তাঁর “S. N.De – An Appreciation” প্রবন্ধে লেখেন – “এস এন দের স্বীকৃতি যে কলেরা একটি toxinosis হল সেই চাবি যা কলেরা প্যাথজেনেসিসের ক্ষেত্রে cellular and molecular events-এর জগতে আমাদের বর্তমান উপলব্ধির দরজা খুলে দিয়েছে … De not only developed and perfected the model, he also used it and described it with such patient and painstaking skill that his colleagues throughout the world could continue the work he began with confidence and satisfaction.” (পৃঃ ৬৩৭)

৩১ মে, ১৯৭৭ সালে W. E. van Heyningen (তিনি তখন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার উইল্যাম ডান স্কুল অফ প্যাথোলজির রিডার) শম্ভুনাথকে একটি চিঠি লেখেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন – (১) “I think your work of tremendous significance and most serious researchers on cholera throughout the world acknowledge this.”, (২) “It is a great honour for me to be in correspondence with you.”

কিন্তু ততদিনে শম্ভুনাথের জীবন তিয়াষার ফল্গুধারা শুকিয়ে গেছে। তিনি এই চিঠির উত্তরে লিখলেন – “আমি আপনার নামের সাথে বিলক্ষণ পরিচিত এবং আপনার টক্সিনের ওপরে পেপারগুলো অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে পড়েছি। কিন্তু আমি এখন একটি মুদির দোকান চালাচ্ছি (grocery shop) – অর্থাৎ আমার বাড়িতে একটি ক্লিনিক্যাল ডায়াগনোস্টিক ল্যাবরেটরি চালাচ্ছি। অন্তত এটুকু আমার স্বান্তনা যে ১৯৭৩ সালে চাকরি থেকে অবসর নেবার পরে আমার বিস্তৃত গবেষণার বিষয় থেকে ফলিত চেহারাটুকু মানুষের জন্য কোন কাজে লাগতে পারছি।” হৃদয়াভ্যন্তরের সমস্ত যন্ত্রণা এ কথাগুলোর মাঝে ঝরে পড়ছে। ২০১৮ সালে এমএসএস মুর্তি তাঁকে নিয়ে বই লিখেছেন – Sambhunath De: the Discovery of Cholera Toxin

২০১১ সালে ইন্ডিয়ান জার্নাল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ-এর সম্পাদকয়ীতে (“Dr Sambhu Nath De: unsung hero”, Indian J Med Res 133, February 2011, pp 127) বলা হয় – “De’s discovery of cholera toxin introduced a new paradigm in research on cholera. A recent search done on November 19, 2009 in the PubMed database using the keyword “cholera toxin” yielded a phenomenal 11,168 publications that the work of De spawned. De’s work on cholera toxin has impinged into diverse areas such as cellular physiology, biochemistry and immunology.”

১৯৫৯ সালে তাঁর নোবেল প্রাইজ পাওয়ার যোগ্য আবিষ্কারের বহুদিন পরে আন্তর্জাতিক জগতে তিনি অবশেষে স্বীকৃতি পান১৯৭৮ সালে নোবেল সিম্পোসিয়ামে বিশেষ লেকচার দেবার জন্য আমন্ত্রিত হন তিনি। এখানেও উল্লেখ করা দরকার যে নোবেল সিম্পোসিয়ামের তরফে পাঠানো প্রথম চিঠি তাঁর কাছে পৌঁছয়নি। (অমিতাভ সেন এবং জলধিকুমার সরকার, “Life and Work of Sambhu Nath De”, Resonance, অক্টোবর ২০১২, পৃঃ ৯৫১)
নোবেল সিম্পোসিয়ামে তাঁর অভিভাষণের শুরুতে শম্ভুনাথ বলেছিলেন – “When discoveries are published in scientific literature, they are presented in a form which does not tell us very much about how things really happened.” (কারেন্ট সায়ান্স, প্রাগুক্ত, পৃঃ ৬৯২)
পরম যন্ত্রণা নিয়ে সে লেকচারের শেষে তিনি বললেন – “সভাপতি এবং বন্ধুবর্গ, শেষ করার আগে, আমি কয়েকটি ব্যক্তিগত মন্তব্য করতে চাই। ১৯৬০এর দশকের গোড়া থেকে আমি মৃত অবস্থায় ছিলাম। Nobel Symposium Committee আমাকে আবার কবর থেকে খুঁড়ে তুলেছে এবং আপনাদের সান্নিধ্যে এই দু’দিন কাটানোর ফলে আমি অনুভব করছি যে আমি আবার জীবনে ফিরে আসছি।” (পৃঃ ৬৯৫)

শেষ কথা

আমরা এতক্ষণের আলোচনায় যা দেখলাম তার নির্যাস হল মূলত ১৯০৫ পরবর্তী সময়ে (এবং মহেন্দ্রলালের মতো ব্যতিক্রমী মানুষের ক্ষেত্রে) বাঙালি জীবনে উপনিবেশিক রাষ্ট্রের মাঝে এবং একে অতিক্রম করে এক নতুন আত্মপরিচিতি গড়ে তোলার সন্ধান। এই সন্ধানে ব্যাপৃত হয়েছেন প্রফুল্ল চন্দ্র থেকে সত্যেন্দ্রনাথ বোস। মেডিসিন ও বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে নতুন নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে বাঙালি মনীষা। আমার আলোচনা সীমাবদ্ধ থেকেছে মেডিসিন ও বিজ্ঞানচর্চার আংশিক ক্ষেত্রে।

কিন্তু ২০২২-এর মধ্যভাগের ভারতবর্ষে জাতীয়তাবাদ, জাতি, বিজ্ঞান এবং জিজীবিষার নতুন করে রাষ্ট্র-নির্ধারিত সংজ্ঞা তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে খুব সামান্য কথা বলা প্রয়োজন।

২০১৯ সালে ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটন প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়েছে বানু সুব্রমনিয়ামের লেখা মোটের ওপরে বৃহৎ পুস্তক Holy Science The Biopolitics of Hindu Nationalism। ভূমিকা এবং উপসংহার সহ মোট ৮টি অধ্যায়ে বিধৃত এই বইটির আলাদা করে চ্যাপ্টারগুলোর উল্লেখ করা। পাঠকেরা অনুমান করতে পারবেন কিভাবে পুস্তকে প্রতিপাদ্যের বিস্তার ঘটেছে – (১) “INTRODUCTION. Avatars for Bionationalism: Tales from (An)Other Enlightenment, (২) “Home and the World: The Modern Lives of the Vedic Sciences”, (৩) “Colonial Legacies, Postcolonial Biologies: The Queer Politics of (Un)Natural Sex”, (৪) “Return of the Native: Nation, Nature, and Postcolonial Environmentalism”, (৫) “Biocitizenship in Neoliberal Times: On the Making of the “Indian” Genome”, (৬) “Conceiving a Hindu Nation: (Re)Making the Indian Womb”, (৭) “CONCLUSION. Avatars for Dreamers: Narrative’s Seductive

Embrace”, এবং (৮) “Ep ilogue. Finding India: The Afterlives of Colonialism”।

বইটির গুরুত্ব বিবেচনা করে নেচার-এ এর একটি রিভিউ প্রকাশিত হয়েছিল (২৫ জুলাই, ২০১৯) “সায়ান্স অ্যান্ড রাইজিং ন্যাশনালিজম ইন ইন্ডিয়া” শিরোনামে। এ রিভিউয়ে একটি গুরুত্ববাহী সতর্কবার্তা ছিল – কিভাবে প্রকৃত বিজ্ঞানীদের দাবী মিশে যেতে পারে হিন্দুত্ববাদীদের দাবীর সাথে – “Another of Subramaniam’s examples reveals that scientific and religious aims can merge, arguably more positively. The government-driven Sethusamudram Shipping Canal Project, which launched in 2005, aimed to dredge a passage through limestone shoals between islands off the coasts of India and Sri Lanka. Environmental scientists who protested against the destruction of this fragile ecosystem found themselves on the same side as Hindu leaders who see the site as sacred (the shoals feature in the epic poem the Ramayana, as a bridge built by the deity Rama and his army of monkeys). Ultimately, the Archaeological Survey of India, the supreme court and the parliament were drawn into the debate. Work on the project halted in 2009.”

আমার লেখা শেষ করছি পূর্বোল্লেখিত পুস্তকে লেখকের একটি পর্যবেক্ষণ রেখে – “It is disconcerting to track how easily Hindu nationalists appropriate South Asian history as Hindu history and how uncritically they embrace Western science as Vedic science in order to forge the idea of India as a Hindu nation and a global superpower. But I do not want to cede Hinduism to Hindu nationalism. Hinduism is a heterogeneous, diverse, polyvocal, and polytheistic religion that proves to be infinitely flexible and adaptable. There is no singular fundamental text, no singular religious authority, no singular code of conduct, no singular religious ritual, no singular religious practice, no singular god. Hinduism can also be seen as an assemblage of vibrant traditions, including ones that embrace nonviolent, pluralistic thinking and an idea of India as a multireligious, secular, democratic republic.” (পৃঃ ২১৬-২১৭)

এই প্রেক্ষিতে বর্তমান প্রবন্ধে আলোচিত এই বিজ্ঞানীর কাজকে পুনরায় বিবেচনা করে দেখতে পারি। শম্ভুনাথ দের মতো বিজ্ঞানীরা তাঁদের দুঃস্বপ্নেও বিজ্ঞানের এরকম চরিত্রের কথা ভাবতে পেরেছেন বলে মনে হয়না। তাঁরা স্বাধীন, মৌলিক এবং উন্মুক্ত পরিসরের বিজ্ঞানচর্চায় বিশ্বাসী ছিলেন।

বাকিটা বিচারের ভার পাঠকের হাতে তোলা রইলো।

 

CATEGORIES
TAGS
Share This

COMMENTS

Wordpress (9)
  • comment-avatar
    Arindam Basu 1 month

    খুব মনোজ্ঞ লেখা। পড়তে পড়তে আরো একজন কলেরা বৈজ্ঞানিকের নাম মনে পড়ছিল, তিনি সদ্যপ্রয়াত দিলীপ মহলানবিশ, যাঁর ও আর এস (ওরাল রিহাইড্রেশন সলিউশন) লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে, এবং বলা যেতে পারে যে শম্ভুনাথ দে’র যোগ্য উত্তরসূরী। এই মানুষটিও নোবেল কমিটির কাছে ব্রাত্য হয়ে রইলেন।
    কলেরার গবেষণা সেভাবে আলোচিত হয়নি, অথচ দেখুন, আধুনিক জনস্বাস্থ্য বলুন বা তার অন্তর্নিহিত বিজ্ঞান বলুন, তার উন্মেষে উনবিংশ শতকে কলেরার মহামারী নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা অনস্বীকার্য । জন স্নো কেবল জনস্বাস্থ্য কেতাবের পাতায় আটকে রইলেন, এইটা বিচিত্র।

  • comment-avatar
    তমা দাস 1 month

    শম্ভুনাথ দে সম্পর্কে বেশ কিছুটা জানলাম। ধন্যবাদ।

  • comment-avatar
    Dipankar Ghosh 1 month

    আগে বিষয়টি বিক্ষিপ্তভাবে এদিকে ওদিকে ছড়ানো অবস্থায় পড়েছি।
    এক জায়গায় প্রথম পড়লাম।
    চমৎকার।

  • comment-avatar
    BARUN BHATTACHARYYA 1 month

    লেখক এই মহান আবিষ্কারকে কবর থেকে তুলে এনে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করলেন। পাঠকরাও সেই সুযোগ পেলেন।

  • comment-avatar
    Bipul Kumar Maitra 1 month

    এককথায় অনবদ্য। অপরদিকে চিন্তার বিষয়। কেননা কিছু বিজ্ঞানীদের যে কথা শেষে উল্লেখিত হয়েছে তা রাষ্ট্রের প্রয়োজনে। ফলে এই লেখা নিয়ে আরো আলোচনা ও প্রচার দরকার আমজনতার স্বার্থে।

  • comment-avatar

    আপনার এই অক্লান্ত পরিশ্রম সার্থক হোক।

  • comment-avatar
    দেবলীনা 1 month

    ভীষণ ভালো একটি তথ্য সমৃদ্ধ ও মনোজ্ঞ আলোচনা পড়লাম । শম্ভুনাথ দে সম্পর্কে ও তাঁর জীবনদায়ী গবেষণা সম্পর্কে বিস্তারিত জানলাম । ভালোলাগলো।

  • comment-avatar
    প্রভাত পাল 1 month

    খুব ভালো লাগলো পড়ে কিছু জানতে পারলাম ।

  • comment-avatar
    প্রভাত পাল 1 month

    Monta vore gelo Shanbhu Nath Dey samporke kichu Tatho Jante parlam.

  • Hacklinkizmir evden eve nakliyatbalgat nakliyateryaman evden eve nakliyatçankaya nakliyat