নীলাদ্রি দেব-এর কবিতাগুচ্ছ

নীলাদ্রি দেব-এর কবিতাগুচ্ছ

বিশ্বাস

আয়তক্ষেত্রের বিপ্রতীপে যে লোকালয়
হারিয়ে গিয়েছি বহুবার
বর্শাপ্রাচীর থেকে গোপন আস্তাবলের দূরত্ব
মাত্র দুই দীর্ঘদেহীর সমান
তাই ঘোড়া পালিয়ে যায়, জকিও
প্রেম ও অস্তমিত সূর্য দুই-ই বোতামের মতো
সুতো দিয়ে বেঁধে রাখছে আলো
ওয়াচটাওয়ার থেকে খসে যাচ্ছে জং ও জঙ্গলের নামচা
সিজারের বিপরীতমুখী বাহু কীভাবে আটকে আছে!
আর সমীকরণ ও সমাধানের পেছনে এত ভিড়
দৌঁড় একটি সহজাত প্রলাপ
কিন্তু ঘাম ও ঘাম পরবর্তী অস্থিরতা
অস্বীকার কোরো না
বেড়াল পালিয়ে গেলে
গলায় ঘুঙুর বেঁধে দেবে বিশ্বাস

ঘোড়া কিংবা জকির কবিতা

যতটা উঁবু দেখছ,
তার চেয়েও উঁবু একটা শরীর
বর্গক্ষেত্রের ভেতর গেঁথে যাচ্ছে
বর্গক্ষেত্রটি একটি বৃত্তে
বৃত্তটি একটি ট্রাপিজিয়মে
এ সব কিছুই অজ্যামিতিক
আকার কিংবা নিরাকারের ভেতর
এখানে কেন্দ্র নেই
কোনো প্রান্ত বা পরিধি নেই
শুধু একটি সুতো
এতে টান এলে সম্পর্কেরা নড়ে ওঠে
আমাদের ভিত ও ভিত্তি বিষয়ে
এখনও তেমন কোনো সেমিনার নেই
আছে বলতে
চেনা প্রশ্নপত্রের বিপরীতে আধখাওয়া আপেল
আপনি সহজেই বুঝতে পারছেন ভর, ভরকেন্দ্র
বিধিবদ্ধ সতর্কীকরণের বাইরে এসব অত্যন্ত তরল
তাই পোশাক পরিবর্তন আবশ্যিক
যতটা স্থির ও স্থিরতার অনুপাত
পাখি উড়ে গেলে
পাখির চোখ ফসকে যায়
আর রেসমাঠে একা উড়তে থাকে
ধূসর ঘোড়ার কেশর

ডাকটিকিট

অ্যাসাইলাম থেকে পালিয়ে যাচ্ছে বেলুন
আর বিপরীতে চায়ের ভাঙা বাগান
নেশামুক্তি কেন্দ্রের বিজ্ঞাপনের নিচে
প্রস্রাব করা বারণ
সড়ক দুর্ঘটনার দিকে মেঘ নিচু হয়ে এলে
পালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাফিক সার্জেন্ট
একলা একটি বিকেল আদৌ কি একলা
আমাদের পোস্টঅফিস ও
পোস্টমাস্টারের গল্প থিতিয়ে এলে
এখনও ডাকটিকিট জমাতে থাকি

আলো নয়, ছায়ার কবিতা

টুপির ছিদ্র দিয়ে আলো এসে লাগে
কি ভীষণ তীক্ষ্ণ
হারিয়ে ফেলা ঠিকানায় বারবার
হেঁটে আসি
কোথায় ধ্রুবতারা, কোথায় তথাগত
নিজস্ব প্রশ্নের নিচেই গাঢ় হয়ে আসে শরীরের ছায়া

মুখ ও মুখোশ

অবিচ্ছিন্ন আলোর দেশ থেকে চিঠি আসে
রাতেও কি উজ্জ্বল সে সমস্ত অক্ষর
বন্ধুর ডাকনাম ধরে ডাকি
প্রতিধ্বনি শুনি তীব্র খাদের ধারে
ডিলানের গানের পাশে পায়রা ওড়ে
ওদের পলকের শাদা ছুঁয়ে থাকি
যে মুখোশ বইছি অভ্যেসবশত
তার ভাঁজেও অক্ষর এসে লাগে
হঠাৎই হারিয়ে যায় আইডেন্টিফিকেশন মার্ক

CATEGORIES
TAGS
Share This

COMMENTS

Wordpress (0)